স্মৃতি আর আড্ডায় গৌরনদীর শতবর্ষী বিদ্যাপীঠে প্রথম প্রাক্তন শিক্ষার্থী পুনর্মিলনী

প্রায় এক শতাব্দীর প্রাচীন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মেদাকুল বিএমএস ইনস্টিটিউশনে প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মিলনমেলাকে কেন্দ্র করে গৌরনদীতে এক উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ঈদের তৃতীয় দিন বুধবার সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বর্ণিল আলোকসজ্জা আর জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয় বিদ্যালয়টির ইতিহাসে প্রথম এই পুনর্মিলনী। কয়েক প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো মাঠ। কয়েক দশক পর শৈশবের খেলার সাথীদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন অনেকে; মেতে ওঠেন গল্প, আড্ডা আর পুরনো স্মৃতিচারণে।

১৯৩০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের মধ্যে কেউ বর্তমানে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা যেমন সচিব, ডিসি বা এসপি, আবার কেউবা সফল চিকিৎসক, প্রকৌশলী কিংবা রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়েও নাড়ির টানে ফিরে আসা এই অতিথিরা দিনভর শৈশবের দিনগুলোতে ডুব দেন। অনুষ্ঠানে প্রয়াত ১২ জন শিক্ষককে মরণোত্তর সম্মাননা প্রদান করা হয় এবং ৪ জন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে বিশেষ সংবর্ধনা দেওয়া হয়। ‘প্রিয় অঙ্গনে, প্রাণের বন্ধনে’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে কবিতা আবৃত্তি, নৃত্য, সংগীত এবং জাদুকরী পরিবেশনা দর্শকদের মুগ্ধ করে।

অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন কেন্দ্রীয় বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র আকন কুদ্দুসুর রহমান। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বরিশাল মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান ইউসুফ আলী সিদ্দিকী। বিশেষ অতিথি ছিলেন বোর্ডের বিদ্যালয় পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম খান এবং বিএনপির সহ-গণশিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান তালুকদার খোকন। বক্তারা বলেন, ৯৫ বছরের এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি দেশ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। শিক্ষকদের প্রতি যথাযথ সম্মান প্রদর্শনের মাধ্যমে নতুন প্রজন্মকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত হওয়ার আহ্বান জানানো হয় সভায়।

আয়োজক কমিটির সদস্য এস এম ইলিয়াস ও ইমতিয়াজ আহম্মেদ শাওন জানান, সবাইকে একটি সুদৃঢ় বন্ধনে আবদ্ধ করা এবং ব্যস্ত জীবনের মাঝে একদিনের জন্য শৈশবে ফিরে যাওয়ার সুযোগ করে দিতেই এই ক্ষুদ্র প্রয়াস। দীর্ঘদিনের অদেখার পর বন্ধুদের সাথে একত্রিত হতে পেরে মীর মুরাদ ও আলী আহম্মদের মতো প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আয়োজকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। ঢাকা, মাদারীপুর ও বরিশাল থেকে আসা শিল্পীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা অনুষ্ঠানটিতে যোগ করে এক ভিন্ন মাত্রা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *