মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের আরও দুই বিচারককে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনলো

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ নিয়েছে। আজ মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঘোষণা করেছেন যে আদালতের দুটি বিচারককে নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। এই নিষেধাজ্ঞার উদ্দেশ্য হলো আন্তর্জাতিক আদালতের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তের কারণে, যেখানে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ তদন্ত অব্যাহত রাখার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

মার্কিন প্রশাসনের মতে, এই বিচারকরা আদালতের রাজনৈতিক পদক্ষেপে সরাসরি জড়িত, কারণ তারা ইসরায়েলের আবেদন খারিজ করার পক্ষে ভোট দিয়েছিলেন, যাতে ইস্রায়েলকে যুদ্ধাপরাধ তদন্ত থামাতে বাধা দেওয়া যায়। মার্কিন প্রশাসন মনে করছে যে আদালত ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে সমালোচনামূলক কার্যক্রম চালাচ্ছে এবং এটি সমস্ত দেশের জন্য বিপজ্জনক নজির স্থাপন করছে।

নিষেধাজ্ঞার ফলে উল্লেখিত বিচারকদের অর্থনৈতিক সম্পদ凍 এবং যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। এই পদক্ষেপ আদালতের স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক আইন ব্যবস্থার জন্য হুমকি বলে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন ও ইসরায়েল উভয়ই আদালতের সদস্য না হলেও, আদালত জানায় তারা সাক্ষ্য, প্রমাণ এবং উপস্থিত সদস্য দেশগুলোর সীমান্তে সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘন ও যুদ্ধাপরাধ তদন্ত চালাতে সক্ষম। পূর্বে আদালত ইসরায়েলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তার পরোয়ানা জারি করেছিল।

আদালত নিষেধাজ্ঞাকে ‘সম্পূর্ণ স্বাধীন বিচারব্যবস্থার বিরুদ্ধে সরাসরি আক্রমণ’ বলে অভিহিত করেছে এবং জানায়, বিচারকদের আইনি দায়িত্ব পালনের জন্য হুমকি দেওয়া হলে আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচার ব্যবস্থা ঝুঁকির মুখে পড়ে যাবে।

এই বছরের প্রথমার্ধে মার্কিন প্রশাসন আদালতের কর্মীদের এবং যারা তদন্তে সহায়তা করেছে তাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল। এর ফলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বহু সমালোচনা দেখা দিয়েছে। আইনজীবী, মানবাধিকার সংগঠন এবং আন্তর্জাতিক সমাজের অনেকে বলছেন, এই পদক্ষেপগুলো বিশ্বব্যাপী যুদ্ধাপরাধ এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারে বড় বাধা সৃষ্টি করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *