বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শেরেবাংলা হলে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলন (বৈছাআ) সমন্বয়কসহ দুই আবাসিক শিক্ষার্থী জোরপূর্বক ধরে নিয়ে শারীরিক হেনস্তা, মানসিক নির্যাতন এবং হত্যার হুমকির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের কয়েকজন নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে।
ভুক্তভোগী দুই শিক্ষার্থী সোমবার পৃথকভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, প্রক্টর এবং হল প্রভোস্ট বরাবর তিনটি আলাদা লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, ১২ ডিসেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিটের মধ্যে শেরেবাংলা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী ও বৈছাআ সমন্বয়ক আইন বিভাগের এস. এম. ওয়াহিদুর রহমান এবং উদ্ভিদ বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ফয়সাল বাদশাকে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হল থেকে ডেকে নিয়ে যান।
এস. এম. ওয়াহিদুর রহমান অভিযোগ করেছেন, হলের মূল ফটকের সামনে তাকে ঘিরে ধরে নবনির্বাচিত ছাত্রদল সভাপতি মো. মোশাররফ হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান, আহসান উল্লাহ, আকিবুর রহমান, সোহানুর রহমান সিফাত, রবিন মিয়া সহ কয়েকজন অজ্ঞাতনামা নেতাকর্মী দেহ তল্লাশি এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন। পূর্বের ব্যক্তিগত বিরোধের জের ধরে তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।
ফয়সাল বাদশা তার অভিযোগে উল্লেখ করেন, তিনি মুক্তমঞ্চে উচ্চশব্দে কনসার্টের প্রতিবাদ করার পর রাত ১টার দিকে রুমের সামনে থেকে জোরপূর্বক ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। তাকে লুঙ্গি ছাড়া অন্য কোনো পোশাক পরার সুযোগ দেওয়া হয়নি এবং শীতের মধ্যে টেনে-হিঁচড়ে হলের নিচে নেওয়া হয়। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাকে হলের নিচের বেঞ্চ ও গেস্টরুমে বসিয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। তাকে “অবৈধ শিক্ষার্থী” এবং “শিবির সংশ্লিষ্টতা” যুক্ত করে ক্ষমা চাইতে বাধ্য করা হয় এবং খালি গায়ের ভিডিও ধারণ করা হয়।
ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, ঘটনার পর তারা চরম আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন এবং হলে স্বাভাবিকভাবে বসবাস ও পড়াশোনা চালানো নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন। তারা দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নিজেরা নিরাপদ থাকার দাবি জানিয়েছেন।
অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতাকর্মী সোহানুর রহমান সিফাত ঘটনা অস্বীকার করে বলেন, “এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি।” অপর অভিযুক্ত সভাপতি মোশাররফ হোসেনও জানিয়েছেন, “আমার জানা নেই, আমরা সেখানে ছিলাম না। অন্য কেউ ছিল কিনা তা জানি না।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর (ভারপ্রাপ্ত) ড. রাহাত হোসেন ফয়সাল জানিয়েছেন, ঘটনার সত্যতা পেলে প্রশাসন এ বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে।
