রাজধানীর মোহাম্মদপুরে গৃহবধূ ও তাঁর কিশোরী কন্যাকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় প্রধান সন্দেহভাজন গৃহকর্মী আয়েশাকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। সকালে ঝালকাঠির নলছিটি উপজেলা থেকে তাকে আটক করা হয়।
ডিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিহত লায়লা আফরোজ এবং তাঁর কন্যা নাফিসা লাওয়াল বিনতে আজিজকে হত্যায় আয়েশাই মূল অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কাজ চলছে।
সোমবার সকালেই মোহাম্মদপুরের একটি বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে লায়লা আফরোজ ও তাঁর কন্যার মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। নাফিসার গলায় গভীর ক্ষত এবং লায়লার শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়। তদন্তকারীরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, গ্লাভস পরিহিত অবস্থায় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে তাদের হত্যা করা হয়েছে।
ভবনের নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ থেকে দেখা যায়, সকাল সাতটার দিকে নাফিসার বাবা বাসা থেকে বের হওয়ার পর সকাল সাতটা একান্ন মিনিটে বোরকা পরা অবস্থায় আয়েশা লিফটে ওঠেন। এরপর সকাল নয়টা পঁয়ত্রিশ মিনিটে নিহত নাফিসা স্কুল পোশাক পরিহিত, মুখে মাস্ক পরা এবং কাঁধে ব্যাগ নিয়ে ভবন ত্যাগ করেন।
নাফিসার বাবা জানান, চার দিন আগে তত্ত্বাবধায়ক ও নিরাপত্তাকর্মীদের মাধ্যমে আয়েশাকে কাজের জন্য নিয়োগ করা হয়। সে প্রতিদিন সকালেই এসে কাজ করত। কাজের সময় বাসার প্রধান দরজার চাবি হারিয়ে যায়, কিন্তু সন্দেহ থাকা সত্ত্বেও তাঁরা বিষয়টি গুরুত্ব দেননি। পরিচয় জানতে চাইলে আয়েশা দাবি করেছিল, তার বাবা–মা আগুনে মারা গেছেন এবং সে নিজেও দগ্ধ হয়েছে, তাই পরিচয় বা নম্বর দিতে অক্ষম।
নাফিসার বাবা আজিজুল ইসলাম নাটোর সদর উপজেলার বাসিন্দা। ২০১২ সাল থেকে পরিবারসহ বর্তমান ভবনের অষ্টম তলায় নিজস্ব ফ্ল্যাটে থাকছেন।
