বরিশালের গৌরনদী পৌরসভা মেয়র পদের উপ-নির্বাচনে এক চাঞ্চল্যকর জালিয়াতির ঘটনা ফাঁস হয়েছে। প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর কাছ থেকে উৎকোচ গ্রহণ এবং প্রার্থীর পক্ষে ভোট দেওয়ার অভিযোগে প্রিজাইডিং অফিসার, সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসারসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার নির্বাচনের ভোটগ্রহণ চলাকালীন সময়ে ঊর্ধ্বতন নির্বাচন কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান চালিয়ে তাদের আটক করে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
ঘটনার বিবরণে জানা গেছে, নির্বাচনের আগের রাতে অর্থাৎ মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে মোবাইল ফোন প্রতীকের প্রার্থী এইচ এম জয়নাল আবেদীনের পক্ষে উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান ফরহাদ হোসেন মুন্সী সরকারি গৌরনদী পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে যান। সেখানে তিনি প্রিজাইডিং অফিসার ও সোনালী ব্যাংক গৌরনদী বন্দর শাখার ম্যানেজার মো. সাইদুর রহমান এবং দুই সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার সঞ্জয় কুমার ভদ্র ও দেলোয়ার হোসেনকে ৫০ হাজার টাকা উৎকোচ প্রদান করেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিষয়টি জানতে পেরে বুধবার পৌনে ১১টার দিকে উর্ধ্বতন নির্বাচন কর্মকর্তারা অভিযুক্তদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।
বরিশাল জেলা সিনিয়র অতিরিক্ত নির্বাচন অফিসার ও রিটার্নিং অফিসার অহিদুজ্জামান মুন্সী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান যে, প্রার্থীর পক্ষ থেকে অবৈধ আর্থিক সুবিধা নেওয়ার প্রমাণ পাওয়ায় ভোটকেন্দ্রে দায়িত্বরত ওই তিন কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদের মুখে প্রিজাইডিং অফিসার মো. সাইদুর রহমান দাবি করেন যে ভাইস চেয়ারম্যান তাকে টাকার প্যাকেট দিতে চাইলে তিনি গ্রহণে অস্বীকৃতি জানান, কিন্তু তার দুই সহকারী কর্মকর্তা সঞ্জয় কুমার ও দেলোয়ার হোসেন সেই টাকা রেখে দেন। অন্যদিকে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসাররা এই অভিযোগ অস্বীকার করে পুরো দায় প্রিজাইডিং অফিসারের ওপর চাপানোর চেষ্টা করেন।
একই দিনে টরকী ভিক্টোরিয়া মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে জালিয়াতির আরেকটি ঘটনা ঘটে। সেখানে ৪ নম্বর বুথের পোলিং অফিসার ও উপজেলা সহকারী পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা মো. আব্দুল হালিম নিজেই একটি নির্দিষ্ট প্রতীকে ভোট প্রদান করার সময় রিটার্নিং অফিসারের হাতে নাতে ধরা পড়েন। জালিয়াতির দায়ে তাকেও তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করা হয়। সহকারী রিটার্নিং অফিসার ও উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. সাইদুর রহমান জানিয়েছেন, নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা রক্ষায় এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
