বরিশালের আগৈলঝাড়া উপজেলার রাহুতপাড়া গ্রামে রিবিকা বাড়ৈ (৩৫) নামের এক গৃহবধূর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধারকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। নিহতের পরিবারের দাবি, স্বামীর পরকীয়া প্রেমে বাধা প্রদান এবং দাবিকৃত এক লক্ষ টাকা যৌতুক দিতে না পারায় রিবিকাকে পরিকল্পিতভাবে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠিয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, পাঁচ বছর আগে মাদারীপুরের ডাসার উপজেলার রিবিকা বাড়ৈর সাথে আগৈলঝাড়ার সঞ্জিত বালার বিয়ে হয়। তাদের দুটি সন্তানও রয়েছে। তবে বিয়ের দুই বছর পর থেকেই সংসারে অশান্তি শুরু হয়। নিহতের বড় ভাই সুবির বাড়ৈর অভিযোগ, সঞ্জিত দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্কে লিপ্ত ছিলেন এবং এ নিয়ে প্রতিবাদ করলে রিবিকার ওপর অমানবিক শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালানো হতো। এর পাশাপাশি এক লক্ষ টাকা যৌতুকের জন্য চাপ সৃষ্টি করে আসছিলেন সঞ্জিত। সোমবার রাতেও এই নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রচণ্ড কলহ হয় এবং রিবিকা ফোনে তার পরিবারকে হত্যার হুমকির কথা জানিয়েছিলেন।
ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত স্বামী সঞ্জিত বালা এবং তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছেন। তাদের বাড়িটি বর্তমানে জনশূন্য এবং সঞ্জিতের মোবাইল ফোনটিও বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জনৈক আত্মীয়ের দাবি, কলহের জেরে রিবিকা আত্মহত্যা করেছেন। অন্যদিকে রিবিকার পরিবারের অভিযোগ, তাকে হত্যার পর ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে চালিয়ে দিতে মরদেহ বাড়ির পাশের বাগানের গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছিল।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আলম চাঁদ জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রাথমিকভাবে একটি অপমৃত্যুর (ইউডি) মামলা দায়ের করা হলেও পরিবারের অভিযোগটি গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে এবং সেই অনুযায়ী পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
