বরিশাল অঞ্চলের নৌ-পথে চলাচলের নিয়ম ভঙ্গ এবং যাত্রী সেবায় গাফিলতির অভিযোগে তিনটি বিলাসবহুল লঞ্চের রুট পারমিট ও সময়সূচি (টাইম টেবিল) বাতিল করেছে অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (BIWTA)। সম্প্রতি এক আদেশের মাধ্যমে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে বলে জানা গেছে।
রুট পারমিট বাতিল হওয়া লঞ্চসমূহ: বাতিল হওয়া এই তিনটি লঞ্চ বরিশাল-ঢাকা এবং আশেপাশের রুটে নিয়মিত চলাচল করত। লঞ্চগুলো হলো: ১. এমভি অ্যাডভেঞ্চার-১ ২. এমভি অ্যাডভেঞ্চার-৯ ৩. এমভি টিপু-৭
কেন এই ব্যবস্থা? বিআইডব্লিউটিএ সূত্র এবং স্থানীয় প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই লঞ্চগুলোর বিরুদ্ধে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছিল:
-
নির্ধারিত সময় অমান্য: লঞ্চগুলো প্রায়ই নির্ধারিত সময়সূচি (টাইম টেবিল) না মেনে আগে বা পরে ঘাট ছেড়ে যেত, যা নৌ-চলাচলের শৃঙ্খলা নষ্ট করছিল।
-
অননুমোদিত বিরতি: যাত্রীদের দুর্ভোগ বাড়িয়ে মাঝপথে অননুমোদিত জায়গায় লঞ্চ থামিয়ে যাত্রী তোলার অভিযোগ ছিল।
-
প্রতিযোগিতামূলক অসুস্থ পরিবেশ: অন্যান্য লঞ্চের সময়সূচিতে হস্তক্ষেপ করা এবং নৌ-পথে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির দায়ে এই লঞ্চগুলোর মালিকপক্ষের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
যাত্রী ও মালিকপক্ষের ওপর প্রভাব: এই আদেশের ফলে লঞ্চ তিনটি আপাতত নির্দিষ্ট রুটে যাত্রী পরিবহন করতে পারবে না। বরিশাল অঞ্চলের নৌ-যাত্রীদের জন্য এটি একটি বড় খবর, কারণ অ্যাডভেঞ্চার সিরিজের লঞ্চগুলো বেশ জনপ্রিয় ছিল। বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, নৌ-পথে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তা ও সময়মতো যাতায়াত নিশ্চিত করতে তারা কঠোর অবস্থানে রয়েছে। নিয়ম ভঙ্গকারী যেকোনো নৌ-যানের বিরুদ্ধেই এ ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
লঞ্চ মালিক সমিতি সূত্রে জানা গেছে, তারা এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করার বা আলোচনার মাধ্যমে পুনরায় পারমিট ফিরে পাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে আপাতত লঞ্চগুলোর চলাচল বন্ধ রয়েছে।
