রাজধানীর শাহবাগে অবস্থান কর্মসূচি থেকে ওসমান হাদি হত্যার বিচার এবং বাংলাদেশে কর্মরত ভারতীয় নাগরিকদের ওয়ার্ক পারমিট (কাজের অনুমতি) বাতিলসহ চার দফা দাবি জানিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চ। রবিবার রাত পৌনে ১০টার দিকে শাহবাগে চলমান সর্বাত্মক অবরোধ কর্মসূচি থেকে সংগঠনের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের এই ঘোষণা প্রদান করেন। ঘোষণা শেষে রোববারের মতো অবরোধ প্রত্যাহার করা হলেও সোমবার দুপুর দুইটায় পুনরায় শাহবাগে অবস্থানের ডাক দেওয়া হয়েছে।
ইনকিলাব মঞ্চের চার দফা দাবি:
১. আগামী ২৪ কার্যদিবসের মধ্যে শহীদ ওসমান হাদির সরাসরি খুনি, পরিকল্পনাকারী ও সহায়তাকারীদের গ্রেপ্তার করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে হবে। এটিই তাদের প্রধান দাবি।
২. বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার স্বার্থে দেশে কর্মরত সকল ভারতীয় নাগরিকের ওয়ার্ক পারমিট বাতিল করতে হবে।
৩. ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনা এবং গত ১৭ বছর গুম-খুনের সাথে জড়িত ব্যক্তি যারা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে, তাদের ফেরত দিতে হবে। ভারত তাদের ফেরত না দিলে আন্তর্জাতিক আদালতে ভারতের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে।
৪. ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড নিয়ে বিভ্রান্তিকর বক্তব্য প্রদানকারী গোয়েন্দা সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত ও বিচার করতে হবে। একই সঙ্গে সিভিল, মিলিটারি ও ইন্টেলিজেন্স বিভাগে থাকা আওয়ামী লীগের দোসরদের চিহ্নিত করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
আন্দোলনের প্রেক্ষাপট ও কর্মসূচি: গত শুক্রবার থেকে ওসমান হাদি হত্যার বিচারের দাবিতে শাহবাগে অবস্থান শুরু করেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা-কর্মীরা। শনিবার রাতে আবদুল্লাহ আল জাবের সারা দেশে অবরোধের ডাক দিলে রোববার দুপুর দুইটা থেকে ঢাকার শাহবাগ মোড় অবরোধ করা হয়। এতে গুরুত্বপূর্ণ এই মোড় দিয়ে সাধারণ যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলেও অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি সেবাগুলো সচল ছিল। অবরোধ কর্মসূচিতে সাউথইস্ট, উত্তরা, বিজিএমইএ-সহ বিভিন্ন বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নেন। এছাড়া রাজধানীর উত্তরার বিএনএস টাওয়ারের সামনেও বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করা হয়।
পরবর্তী কর্মসূচি: আবদুল্লাহ আল জাবের ঘোষণা করেন যে, সোমবার দুপুর দুইটা থেকে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণকে শাহবাগে অবস্থান নিতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে এবং আন্দোলনের তীব্রতা সময়ের সাথে সাথে আরও কঠোর থেকে কঠোরতর হবে।
