ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের গৌরনদী উপজেলার বাটাজোর এলাকায় মায়ের সাথে দেখা করতে এসে বেপরোয়া বাসের চাপায় ইয়াসিন সিকদার (১০) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে বাটাজোর পুলিশ ফাঁড়ির সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে। এ সময় ইয়াসিনের নানা মজিবর রহমান (৫৫) গুরুতর আহত হয়েছেন।
একটি শোকাতুর জীবনগল্পের করুণ সমাপ্তি স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ইয়াসিনের মা নুসরাত জাহানের জীবনের গল্পটি অত্যন্ত বেদনার। ২০১৪ সালে বিয়ের পর নুসরাত অন্তঃসত্ত্বা থাকা অবস্থায় তার প্রথম স্বামী তাকে তালাক দিয়ে চলে যান। এরপর ২০১৫ সালে ইয়াসিনের জন্ম হয় এবং সে নানার বাড়িতেই বড় হতে থাকে। গত ১ মার্চ নুসরাতের দ্বিতীয় বিয়ে হয় গৌরনদীর বাটাজোর এলাকায়। মা অন্যত্র চলে যাওয়ায় ১০ বছরের শিশু ইয়াসিন মায়ের জন্য অনবরত কান্নাকাটি করছিল।
মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে নানা মজিবর রহমান ইয়াসিনকে তার মায়ের সাথে দেখা করাতে নিয়ে যাচ্ছিলেন। মহাসড়ক পার হওয়ার সময় বরিশালগামী ‘হাওলাদার’ নামের একটি লোকাল বাস তাদের চাপা দেয়। মায়ের সাথে দেখা হওয়ার কয়েক মুহূর্ত আগেই বাসের চাকায় পিষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারায় ইয়াসিন। নানা মজিবর রহমান কান্নায় ভেঙে পড়ে বলেন, “দুঃখী ইয়াসিনের মায়ের সাথে আর দেখা হলো না।”
বিক্ষুব্ধ জনতার অগ্নিসংযোগ ও যানজট দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বিক্ষুব্ধ জনতা ঘাতক বাসটি আটক করে তাতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তবে আগুন দেওয়ার আগেই চালক, হেলপার ও যাত্রীরা বাস থেকে নেমে নিরাপদে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়। ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা দ্রুত পৌঁছে বাসের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
একই রাতে পৃথক দুর্ঘটনা এদিকে রাত পৌনে ৯টার দিকে মহাসড়কের দক্ষিণ বাটাজোর এলাকায় ‘কিংস পরিবহন’ এর একটি বাসের সাথে পিকআপ ভ্যানের মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
গৌরনদী হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আমিনুর রহমান জানান, শিশু ইয়াসিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনা কবলিত যানবাহনগুলো জব্দ করা হয়েছে। আহত নানা মজিবর রহমানের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ চালক ও হেলপারকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে এবং আইনি ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
