দীর্ঘ নির্বাসন কাটিয়ে দেশে ফেরার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে দলের প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মাধ্যমে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন। এই সময় তার সাথে দলের শীর্ষ পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ এবং হাজার হাজার নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন। তার এই শ্রদ্ধা নিবেদনকে কেন্দ্র করে মাজার প্রাঙ্গণ ও আশপাশের এলাকায় এক বিশাল জনসমাগমের সৃষ্টি হয়।
নেতাকর্মীদের বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাস
তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই মাজার এলাকায় ঢল নামে বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের। দীর্ঘ সময় পর প্রিয় নেতাকে সরাসরি সামনে পেয়ে কর্মীদের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা লক্ষ্য করা গেছে। ‘জিয়া তুমি মরণ নেই, আমরা তোমায় ভুলিনি’ এবং তারেক রহমানের নামে বিভিন্ন স্লোগানে মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা। উপস্থিত জনতাকে সামাল দিতে এবং শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দলের স্বেচ্ছাসেবক ও নিরাপত্তা বাহিনীকে বেশ হিমশিম খেতে হয়।
রাজনৈতিক বার্তা ও দোয়া মাহফিল
মাজারে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর পর তারেক রহমান প্রয়াত নেতার আত্মার মাগফিরাত কামনায় বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এই সময় তাকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ দেখা যায়। যদিও তিনি সেখানে আনুষ্ঠানিক কোনো দীর্ঘ বক্তৃতা দেননি, তবে তার এই প্রকাশ্য কর্মসূচি রাজনৈতিকভাবে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এটি মূলত বিএনপির সাংগঠনিক শক্তির প্রদর্শন এবং আগামী দিনের রাজনৈতিক আন্দোলনের একটি শক্তিশালী বার্তা হিসেবে গণ্য হচ্ছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও শৃঙ্খলা
মাজার জিয়ারত কর্মসূচিকে ঘিরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিএনপির নিজস্ব নিরাপত্তা কর্মীরা সতর্ক অবস্থানে ছিল। কোনো ধরণের অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শান্তিপূর্ণভাবে এই কর্মসূচি সম্পন্ন হয়। শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে তারেক রহমান গাড়িতে করে মাজার প্রাঙ্গণ ত্যাগ করার সময় রাস্তার দুই পাশে দাঁড়িয়ে থাকা হাজার হাজার নেতাকর্মী তাকে হাত নেড়ে অভিবাদন জানান।
দলের নতুন পথচলা
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের এই মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে বিএনপির রাজনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো। দলীয় প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের আদর্শকে ধারণ করে তিনি আগামী নির্বাচনে দলকে কীভাবে নেতৃত্ব দেন, এখন সেটিই দেখার বিষয়। তার এই সক্রিয় উপস্থিতি নেতাকর্মীদের মাঝে যে আত্মবিশ্বাস জুগিয়েছে, তা সামনের দিনগুলোতে বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় ধরণের প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
