সাধারণ বন্দিদের জন্য কারাগার কষ্টের জায়গা হলেও বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারে ভিন্ন চিত্র দেখা গেছে গৌরনদী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক মেয়র হারিছুর রহমান হারিছের ক্ষেত্রে। গত ১৫ বছরে গৌরনদীতে রাজনৈতিক সন্ত্রাসের গডফাদার হিসেবে পরিচিত এই নেতার কারাগারে বিলাসী জীবনযাপনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার সকালে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করেছে গৌরনদী উপজেলা বিএনপি।
সরকারি গৌরনদী কলেজ গেট থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ মিছিলটি ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থান প্রদক্ষিণ করে। পরে শহীদ মিনারে আয়োজিত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সৈয়দ সরোয়ার আলম বিপ্লব, সদস্য সচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান এবং জেলা সদস্য জহুরুল ইসলাম জহিরসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা অভিযোগ করেন, কয়েকশ নেতাকর্মীর ওপর হামলা ও লুটপাটের নির্দেশদাতা হারিছ কারাগারে রাজকীয় সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা অবিলম্বে হারিছের মেয়র থাকাকালীন দুর্নীতির তদন্ত এবং ছাত্র-জনতা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার দায়ে তার ফাঁসি দাবি করেন।
এদিকে হারিছের বিলাসী জীবন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ করেছেন সাবেক আওয়ামী লীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন সান্টু। তিনি তার স্ট্যাটাসে উল্লেখ করেন, হারিছ কোর্ট গারদে আলাদা চেয়ারে বসা, দীর্ঘক্ষণ ফোনে কথা বলা এবং বাইরে থেকে আনা উন্নত মানের খাবার খাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। সাধারণ বন্দিরা মনে করছেন হারিছ এখনো ক্ষমতার মালিক। যদিও পরবর্তীতে তিনি স্ট্যাটাসটি মুছে ফেলেন, তবে তিনি দাবি করেছেন যে যা দেখেছেন তা সত্য।
এ বিষয়ে গৌরনদী কোর্ট জিআরও বেলাল হোসেন জানান, তার ডিউটির সময় নিয়মের বাইরে কোনো সুবিধা দেওয়া হয়নি। অন্যদিকে বরিশাল কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মোহাম্মদ জয়নাল আবেদীন ভূঞা বিষয়টিকে ‘উদ্ভট’ বলে দাবি করেন। জেল সুপারের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি।
