ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আংশিক নৌ-অবরোধকে ‘অবৈধ সশস্ত্র আগ্রাসন’ হিসেবে অভিহিত করে এর তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতিসংঘের চারজন মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ। বুধবার এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই পদক্ষেপকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেন এবং মার্কিন কংগ্রেসকে এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করার আহ্বান জানান।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা তাদের বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, একতরফা নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার জন্য সশস্ত্র অবরোধ ব্যবহারের কোনো আইনগত অধিকার নেই। তারা জানান, জাতিসংঘের সনদ অনুযায়ী অন্য কোনো দেশের বিরুদ্ধে সামরিক শক্তির এমন ব্যবহার নিষিদ্ধ। এছাড়া ১৯৭৪ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে গৃহীত আগ্রাসনের সংজ্ঞা অনুযায়ীও এটি একটি ‘অবৈধ সশস্ত্র আগ্রাসন’।
আল জাজিরার প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে মাদক-সন্ত্রাস, মানবপাচার এবং হত্যাকাণ্ডে অর্থায়নের জন্য তাদের খনিজ তেল ব্যবহারের অভিযোগ এনেছেন। এই অভিযোগের ভিত্তিতে ক্যারিবীয় সাগরে বড় ধরনের সামরিক বাহিনী মোতায়েন করেছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ভেনেজুয়েলার তেলবাহী ট্যাঙ্কারগুলোকে বাধা দিচ্ছে। তবে কারাকাস এই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছে যে, ওয়াশিংটন মূলত বিশ্বের বৃহত্তম তেল মজুত দখল করার জন্য প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করার চেষ্টা করছে।
জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞরা আরও জানান যে, গত সেপ্টেম্বর থেকে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার বেশ কিছু নৌকায় বিমান হামলা চালিয়েছে, যাতে ১০০-এর বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে যে ওই নৌকাগুলোতে মাদক পরিবহন করা হচ্ছিল, যদিও তারা এখনো কোনো সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি। বিশেষজ্ঞরা এই হত্যাকাণ্ডগুলোকে ‘জীবনের অধিকারের লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করে এর সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিচার দাবি করেছেন।
যৌথ বিবৃতিতে স্বাক্ষরকারী চার বিশেষজ্ঞ হলেন—বেন সল (সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা ও মানবাধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক), জর্জ কাত্রুগালোস (গণতান্ত্রিক ও ন্যায়সঙ্গত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ), সুরিয়া দেভা (উন্নয়ন বিশেষজ্ঞ) এবং জিনা রোমেরো (শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার বিষয়ক বিশেষ প্রতিবেদক)। তারা বিশ্ব সম্প্রদায়ের প্রতি এই অবৈধ অবরোধ ও হত্যাকাণ্ড বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
