বরিশালের গৌরনদী উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম হাফিজ মৃধার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দেওয়ায় ইউপি সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে সাক্ষ্য দিতে আসা সদস্যদের ওপর চেয়ারম্যানের ‘ভাড়াটে’ বিএনপি নেতাকর্মীরা এই হামলা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলায় ৪ সদস্য আহত হয়েছেন এবং ইউএনও কার্যালয়ের আসবাবপত্র ভাঙচুর করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ:
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, নলচিড়া ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দ আত্মসাৎ, স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম এবং সদস্যদের বেতন-ভাতা থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগ এনে গত ২৮ এপ্রিল ১১ জন সদস্য অনাস্থা প্রস্তাব জমা দেন। এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্তের জন্য ইউএনও রিফাত আরা মৌরী মঙ্গলবার সকালে সদস্যদের সাক্ষাৎকার দিতে ডাকেন।
সাক্ষ্য দিতে আসা ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মো. ইসমাইল হোসেন হীরা অভিযোগ করেন, তারা ইউএনও কার্যালয়ে পৌঁছালে চেয়ারম্যানের নির্দেশে উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক গাজী আবু বকর ও উপজেলা যুবদলের সদস্য সচিব ফুয়াদ হোসেনের নেতৃত্বে ২০-২৫ জন সন্ত্রাসী তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে তিনি নিজে এবং ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য মামুন খলিফাসহ চারজন আহত হন। হামলাকারীরা ইউএনও অফিসের সহকারী আব্দুর রবের কক্ষেও প্রবেশ করে আসবাবপত্র তছনছ ও ভাঙচুর করে।
অনাস্থা দেওয়া সদস্যরা হলেন:
১ নং ওয়ার্ডের আলিম হাওলাদার, ২ নং ওয়ার্ডের আহাদুল ইসলাম, ৩ নং ওয়ার্ডের মো. ইসমাইল হোসেন হীরা, ৪ নং ওয়ার্ডের এফএম বাবুল হোসেন, ৫ নং ওয়ার্ডের মামুন খলিফা, ৬ নং ওয়ার্ডের শহিদুল ইসলাম খান, ৭ নং ওয়ার্ডের মো. গিয়াস খান, ৮ নং ওয়ার্ডের আলাউদ্দিন মীর, ৯ নং ওয়ার্ডের মাসুদুল ইসলাম এবং সংরক্ষিত নারী সদস্য রেহানা বেগম ও আলেয়া বেগম।
অভিযুক্তদের বক্তব্য:
-
চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা: তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তিনি এই ঘটনার সাথে জড়িত নন এবং পরিষদে বসে হামলার খবর শুনেছেন।
-
বিএনপি নেতা গাজী আবু বকর: তিনি হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে দাবি করেন, তিনি বরং সদস্যদের রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন।
-
যুবদল নেতা ফুয়াদ হোসেন: তিনি জানান, যারা অতীতে তার ওপর হামলা করেছিল, তিনি তাদের ওপর পাল্টা হামলা করেছেন।
প্রশাসনের ভূমিকা:
গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরী জানান, দাপ্তরিক কাজে তিনি বাইরে ছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত ফিরে পুলিশ ডাকলে হামলাকারীরা পালিয়ে যায়। এ বিষয়ে তদন্ত সাপেক্ষে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানান, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
