রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা মাহফুজ আলম। তিনি বলেন, পরিস্থিতি এখন অত্যন্ত সংকটময়। আর একটি লাশ পড়লে পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে। অনেক ধৈর্য দেখানো হয়েছে, আর নয় বলেও স্পষ্ট করেন তিনি।
সোমবার বিকেলে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে মাহফুজ আলম বলেন, আইনের ফাঁকফোকর ব্যবহার করে বিদেশে আশ্রয় নিয়ে দেশের মানুষের ওপর হামলা চালানো হলে তা আর বরদাশত করা হবে না। তিনি দাবি করেন, অভ্যুত্থানের পর লড়াইয়ে পরাস্ত হওয়ার কারণেই হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। তার ভাষায়, এই লড়াই দীর্ঘ এবং এর মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত একটি নির্দিষ্ট আদর্শের ভিত্তি সম্পূর্ণভাবে উৎখাত করা, কিন্তু সেই প্রচেষ্টা এখনো দুর্বল।
তিনি আরও বলেন, দেশে বসে একটি গোষ্ঠী রাষ্ট্রবিরোধী অপতৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। নির্দিষ্ট সময়ের পরও তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা না নেওয়াকে তিনি ভুল হিসেবে উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে আর কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলে ঘোষণা দেন। মাহফুজ আলম বলেন, আমরা নিরাপদ না থাকলে শত্রুরাও নিরাপদ থাকতে পারবে না। জুলাইয়ের শক্তিকে গঠনমূলকভাবে সংগঠিত করতে পারলে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা সম্ভব হবে।
প্রতিরোধ সমাবেশে অন্যান্য বক্তারাও কঠোর বক্তব্য দেন। তারা স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, একাধিকবার জীবননাশের আশঙ্কা তৈরি হওয়ার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, এই উপদেষ্টাকে নিয়ে আর সামনে এগোনো সম্ভব নয় এবং দ্রুত পদত্যাগ করতে হবে।
বক্তারা শরিফ ওসমান বিন হাদির ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানান এবং হামলাকারীদের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি তোলেন। তারা বলেন, হাদি কোনো একক ব্যক্তি নন, তিনি সবার প্রতিনিধিত্ব করেন।
সমাবেশে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। সমাবেশস্থলজুড়ে একের পর এক প্রতিবাদী স্লোগানে উত্তাল হয়ে ওঠে পরিবেশ। স্লোগানে তারা ঘোষণা দেন—ভুলের মুখে কথা বলার সাহস হারানো হবে না এবং অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ চলবেই।
