গাজায় চলমান যুদ্ধে আহত শিশুদের মানসিক ও শারীরিক যন্ত্রণা লাঘবে অভিনব এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ প্রযুক্তির সহায়তায় এসব শিশু অল্প সময়ের জন্য হলেও যুদ্ধের ভয়াবহ বাস্তবতা থেকে দূরে কল্পনার এক শান্ত জগতে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছে।
চিকিৎসা কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন শিশুদের মাথায় বিশেষ যন্ত্র পরিয়ে তাদের সামনে তুলে ধরা হচ্ছে সবুজ মাঠ, সমুদ্রতীর, খেলাধুলার দৃশ্য কিংবা রঙিন কল্পলোক। এতে শিশুদের মনোযোগ ব্যথা ও আতঙ্ক থেকে সরে গিয়ে আনন্দময় অভিজ্ঞতায় যুক্ত হচ্ছে। চিকিৎসকেরা বলছেন, এই পদ্ধতিতে শিশুদের মানসিক চাপ কমছে এবং চিকিৎসা গ্রহণের সময় তারা তুলনামূলক শান্ত থাকছে।
যুদ্ধে আহত অনেক শিশু দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ব্যথা, ভয় ও মানসিক আঘাত বহন করছে। প্রচলিত চিকিৎসার পাশাপাশি এই উদ্যোগ তাদের মানসিক পুনর্বাসনে সহায়ক হচ্ছে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। অভিভাবকরাও বলছেন, সন্তানদের মুখে হাসি ফেরা তাদের জন্য বড় স্বস্তির।
তবে অবরুদ্ধ গাজায় এই ধরনের উদ্যোগ চালিয়ে নেওয়া সহজ নয়। বিদ্যুৎ সংকট, চিকিৎসা সামগ্রীর অভাব ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির মধ্যেও স্বেচ্ছাসেবীরা শিশুদের জন্য এই স্বস্তির আয়োজন চালিয়ে যাচ্ছেন।
চিকিৎসকদের মতে, যুদ্ধ থামানোই শিশুদের জন্য সবচেয়ে বড় চিকিৎসা। তবে ততদিন পর্যন্ত এমন মানবিক উদ্যোগ আহত শিশুদের কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করতে পারে। গাজার শিশুদের চোখে এই কল্পনার জগৎ যেন বাস্তবতার নিষ্ঠুরতা থেকে সাময়িক মুক্তির এক ছোট জানালা।
