রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন অপমানিত বোধ করছেন, নির্বাচনের পর পদত্যাগের ইচ্ছা প্রকাশ

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন ক্ষমতার মেয়াদ চলাকালীন আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেছেন যে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারের আচরণে নিজেকে অপমানিত বোধ করছেন এবং তাই তিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদত্যাগ করতে চান।

রাষ্ট্রপতি এই মন্তব্য একটি সাক্ষাৎকারে প্রকাশ করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, নির্বাচন পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করবেন, কিন্তু নির্বাচনের পর তিনি পদ ছাড়ার ইচ্ছা পোষণ করছেন।

সাহাবুদ্দিন উল্লেখ করেছেন যে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের সঙ্গে দীর্ঘ সময় যোগাযোগের অভাব এবং তাঁর প্রেস বিভাগ হঠাৎ করে সরকারি কাঠামো থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে, যা তাকে মানহানিকর পরিস্থিতিতে ফেলেছে। রাষ্ট্রপতির প্রতিকৃতি হঠাৎ অপসারণ করা হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের মাঝে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করেছে এবং স্থানীয় জনগণের কাছে নেতিবাচক বার্তা পাঠিয়েছে।

৭৫ বছর বয়সী সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালে পাঁচ বছর মেয়াদী পদে নির্বাচিত হন এবং দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। রাষ্ট্রপতির পদের দায়িত্বের মধ্যে সর্বোচ্চ সামরিক বাহিনীর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও এটি একটি মূলত আনুষ্ঠানিক পদেরূপে বিবেচিত হয়।

সাহাবুদ্দিন জানিয়েছেন, নির্বাচন না হওয়া পর্যন্ত তিনি সংবিধান অনুসারে দায়িত্ব পালন করবেন, তবে নির্বাচনের পর নিজের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার ইচ্ছা পোষণ করছেন। তিনি জানিয়েছেন যে তিনি মনে করেন তাঁর কণ্ঠকে তার নিজ প্রশাসনের কাঠামোর বাইরে হ্রাস করা হয়েছে এবং এটি তার জন্য মানসিকভাবে কষ্টের কারণ হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, রাষ্ট্রপতির এই সিদ্ধান্ত দেশের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি ও শাসন ব্যবস্থাকে নতুনভাবে প্রভাবিত করতে পারে, বিশেষ করে নির্বাচনের পর সংবিধানিক পদগুলির গুরুত্ব ও কার্যকর ভূমিকা নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি হতে পারে।

বর্তমানে রাষ্ট্রপতি কোনো রাজনৈতিক দলের সরাসরি পদত্যাগের অনুরোধের উল্লেখ করেননি। তিনি বলেছেন, নিজেকে রাজনৈতিক দলের বাইরে রেখে সংবিধানগত দায়িত্ব পালন করাই তার উদ্দেশ্য।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *