সুদানের গৃহযুদ্ধের প্রভাবে সীমান্তবর্তী হেগলিগ তেলক্ষেত্র রক্ষার জন্য দক্ষিণ সুদানের সেনা সেখানে স্থায়ী হয়েছে। এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ও সরকারি বাহিনীর সংঘর্ষের কারণে তেলক্ষেত্রটি নিরাপত্তাহীনতার মুখে পড়ে। তেলক্ষেত্রটি শুধুমাত্র সুদানের প্রধান তেল উৎপাদনের ক্ষেত্র নয়, এটি দক্ষিণ সুদানের তেলের রপ্তানির জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সাম্প্রতিক সংঘাতে আধা-সামরিক বাহিনী হেগলিগ দখল করে এবং সুদানের সরকার সমর্থিত বাহিনী ওই এলাকা থেকে প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয়। এরপর সমঝোতার অংশ হিসেবে দক্ষিণ সুদানের সেনারা তেলক্ষেত্রটি রক্ষার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে যাতে তেল সরবরাহ ও অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত না হয়।
এক সমঝোতা চুক্তিতে অংশ নেওয়া সব পক্ষ—দক্ষিণ সুদানের শীর্ষ নেতৃত্ব, সুদানের সরকার ও বিদ্রোহী বাহিনী—এলাকাটি যুদ্ধক্ষেত্র থেকে মুক্ত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। এতে তেলক্ষেত্রটি নষ্ট বা ক্ষতিগ্রস্থ হওয়ার সম্ভাবনা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। দক্ষিণ সুদানের সেনারা কঠোরভাবে নিরপেক্ষ অবস্থান ধরে রেখেছে এবং তাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র তেলক্ষেত্রটি সুরক্ষায় রাখা।
এই নিযুক্তি বিতর্ক ছাড়াও গত কয়েক দিনে ড্রোন হামলায় দক্ষিণ সুদানের তিনজন সৈন্য নিহত হয়েছে, যা সংঘর্ষের জটিলতা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। পাশাপাশি হাজার হাজার সাধারণ মানুষ সীমান্ত পেরিয়ে নিরাপত্তা খুঁজতে দক্ষিণ সুদানে প্রবেশ করেছে।
হেগলিগ তেলক্ষেত্রটি দৈনিক বিপুল পরিমাণ তেল প্রক্রিয়াকরণ সক্ষমতার কারণে উভয় দেশের জন্য অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দক্ষিণ সুদান তেলরপ্তানি করে থাকে সুদানের পাইপলাইনের মাধ্যমে, তাই এই স্থলটি ধরে রাখা দক্ষিণ সুদানের অর্থনীতির জন্যও অত্যাবশ্যক।
এ অবস্থায় দক্ষিণ সুদানের ভূমিকা যুদ্ধ পরিস্থিতির নতুন দিক উন্মোচিত করেছে, যেখানে তেল সম্পদ রক্ষা ও কূটনৈতিক সমঝোতা দুটোই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
