কলম্বো, ৭ ডিসেম্বর ২০২৫ — ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’ ও টানা ভারি বর্ষণের পর শ্রীলঙ্কা জুড়ে দেখা দিয়েছে বিস্তৃত বন্যা ও ভূমিধস। সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৬১৮ জনে।
বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায়, প্রায় ২০ লাখ মানুষ এ দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১০ শতাংশ।
-
৭৫,০০০টিরও বেশি ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
-
প্রায় ৫,০০০ বাড়ি সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত
-
মধ্য ও পাহাড়ি অঞ্চলে নতুন করে ভূমিধসের আশঙ্কা
ভারী বৃষ্টিতে পাহাড়ি ঢাল অস্থিতিশীল হয়ে পড়ায় উদ্ধারকারী দলকে বাড়তি সতর্কতার সঙ্গে কাজ করতে হচ্ছে।
উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম
বন্যায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া এলাকাগুলোতে বিমান ও নৌবাহিনী উদ্ধার অভিযান চালাচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য, ওষুধ ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি বিদেশ থেকেও জরুরি সহায়তা পাঠানো হয়েছে।
সরকার অনুমান করছে, পুনর্গঠন ও পুনর্বাসনে প্রায় ৭ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।
এশিয়া জুড়ে দুর্যোগ
শ্রীলঙ্কার পাশাপাশি দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার আরও কয়েকটি দেশে টানা বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধসে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মিলিয়ে মৃতের সংখ্যা প্রায় দুই হাজারের কাছাকাছি পৌঁছেছে।
দীর্ঘমেয়াদী উদ্বেগ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৃষ্টিপাতের তীব্রতা ও ঘনত্ব বাড়ছে, যা এমন দুর্যোগকে আরও জটিল করে তুলছে। পাহাড়ি এলাকায় অবৈধ বা দুর্বল অবকাঠামো নির্মাণ এবং বন উজাড়ও ভূমিধসের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
দুর্যোগ মোকাবিলা ও ভবিষ্যৎ ক্ষতি কমাতে দ্রুত পরিকল্পনা, বৈজ্ঞানিক ভূমি ব্যবস্থাপনা ও জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো তৈরির উপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
