দেশের রাজস্ব সংগ্রহ বাড়ানোর লক্ষ্যে, এনবিআর আগামীকাল থেকে শুরু করতে যাচ্ছে ভ্যাট-দিবস ও ভ্যাট-সপ্তাহ। এ উপলক্ষে তারা ঘোষণা করেছে — ডিসেম্বর মাসের মধ্যে এক লক্ষ নতুন ব্যবসাকে ভ্যাট-নামে রেজিস্টার করার পরিকল্পনা।
বর্তমানে দেশে প্রায় ৬ লাখ ৪৪ হাজার ভ্যাট নিবন্ধিত ব্যবসা আছে, কিন্তু বাস্তব বাজারে কাজ করা ব্যবসার সংখ্যা এই সংখ্যার তুলনায় অনেক বেশি। এনবিআর মনে করে, ভ্যাট নেট — অর্থাৎ যারা ভ্যাট দেবার দায়িত্বে — আজ খুব ক্ষুদ্র। তাই নতুন উদ্যোগে লাখখানেক ব্যবসাকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা।
নতুন এই অধিবেশনের সময় হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে আগামী ১০ থেকে ১৫ ডিসেম্বর। এরপর থেকে বিশেষ ভ্যাট নিবন্ধন অভিযান চলবে চলতি মাসের শেষ পর্যন্ত। উদ্যোগের মূল বার্তা: “ভ্যাট সময়মতো নিবন্ধন করো, সঠিকভাবে ভ্যাট দাও।”
এনবিআর চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, ভ্যাট নিবন্ধন ও রিটার্ন (রিটার্ন দাখিল) প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হবে। খুব শিগগিরই এক-ক্লিক অনলাইন সিস্টেম চালু হবে, যার মাধ্যমে ছোট-খাট ব্যবসায়ীরাও মধ্যস্ততা ছাড়াই নিজেই রিটার্ন দাখিল করতে পারবেন।
কর্মসূচির উদ্দেশ্য শুধু ব্যবসা রেজিস্ট্রেশন বাড়ানো নয় — একই সঙ্গে ভ্যাট ফাঁকি, অব্যবস্থাপনা ও গোলযোগ কমিয়ে রাজস্ব সংগ্রহে স্বচ্ছতা ও স্থিরতা আনা। ভবিষ্যতে, এনবিআর আশা করছে, একচেটিয়া বা গুটিকছ-ব্যবসা নয়, বড় চাকরি, খুচরা, সেবা, শিল্প—সব ধরনের ব্যবসা ভ্যাট-নামের আওতায় আসবে।
যদি এই উদ্যোগ সফল হয়, তাহলে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় আরও নিয়মনীতিমালা ও ধারাবাহিকতা আসবে। পরিকাঠামো, সেবা ও উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য রাজস্ব নিশ্চিত হবে। আর সাধারণ ব্যবসায়ী থেকে বড় প্রতিষ্ঠান—সবাই আইন অনুযায়ী কর দেবে; ফলে বাজারেও স্বচ্ছতা বাড়বে।
