BTRC মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি ও বিক্রেতা এনলিস্টমেন্ট প্রক্রিয়া সহজ করবে

সম্প্রতি বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (BTRC) ঘোষণা করেছে, যে দেশে মোবাইল হ্যান্ডসেট আমদানি এবং বিক্রেতাদের (ভেন্ডার) কাছে নিয়োগের (এনলিস্টমেন্ট) বিধি আরও সহজ হবে। এই সিদ্ধান্ত হয়েছে, মোবাইল ফোন ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের সঙ্গে বৈঠকে — যাতে বৈধ আমদানিকারক ও বিক্রেতারা নিয়ম মোতাবেক দ্রুত কাজ করতে পারে।

বর্তমানে দেশে খুবই কঠোর বা জটিলভাবে আমদানির অনুমোদন, নথিপত্র, বিক্রেতা তালিকাভুক্তি–কর্মসূচি চালু রয়েছে। কিন্তু অনেক ব্যবসায়ী দাবি করেছে, এই নিয়মগুলো স্বল্প পুঁজি বা সীমিত উৎসের জন্য বেশ কষ্টসাধ্য। নতুন সিদ্ধান্তে BTRC জানায় — আমদানি সনদ ও বিক্রেতা এনলিস্টমেন্ট সনদ দেওয়া হবে স্বল্প সময়ের মধ্যে, এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সংখ্যাও কমানো হবে। বিশেষ করে, শুধু মোবাইলের মূল উৎপাদনকারী সংস্থার চুক্তিপত্র নয় — অনুমোদিত সরবরাহকারী সংস্থার প্রত্যয়নপত্র থাকলেই অনুমোদন মিলবে।

এ ছাড়া, যারা বাজারে ইতিমধ্যেই বিক্রয়ের জন্য থাকা স্টক হিসেবে হ্যান্ডসেট রেখেছেন, তারা ১৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত বিক্রয়ের জন্য তালিকাভুক্তির ব্যবস্থা করতে পারবে। অর্থাৎ, পুরনো বা আমদানিকৃত হ্যান্ডসেটগুলোকেও রেশনালাইজেশন (বৈধকরণ) করার সুযোগ দিচ্ছে।

তবে এই সহজীকরণের সাথে BTRC একসঙ্গে বলেছে, যে তারা অবৈধ বা ক্লোন/কপি/ব্যবহৃত/রিফারবিশড হ্যান্ডসেট যাতে দেশে প্রবেশ করতে না পারে — সেটা নিশ্চিত করতে চায়। ফলে, নথিপত্র ছাড়াই আমদানি বা অননুমোদিত হ্যান্ডসেট বিক্রির সুযোগ আর থাকবে না।

এই সিদ্ধান্ত মোবাইল ফোন বিক্রেতা ও আমদানিকারকদের জন্য একটা বড় স্বস্তি। কারণ, তাদের দীর্ঘদিন ধরেই দাবি ছিল — নিয়মগুলো বাস্তবিকতার সঙ্গে না মিললে ব্যবসা করা কঠিন। এখন BTRC-র পদক্ষেপ সেই সহজীকরণের দিকে যোগ দিয়েছে। একই সময়ে, যেকোনো অননুমোদিত ফোন বা কপি-হ্যান্ডসেট বাজারে আসার সম্ভাবনা কমবে, যা গ্রাহক, আইন, এবং নিয়ন্ত্রক সকলের জন্য লভ্য।

বাংলাদেশের টেলিযোগাযোগ খাতে অনেক চ্যালেঞ্জ রয়েছে — অবৈধ আমদানি, ক্লোন ফোন, নেটওয়ার্ক নিরাপত্তা, কর ও শুল্ক আদায়। নতুন এই সিদ্ধান্ত যদি সফলভাবে বাস্তবায়ন হয়, তাহলে শুধু ব্যবসায়ী এবং গ্রাহকরাই লাভবান হবেন না — দেশের টেলিযোগাযোগ ব্যবস্থা আরও স্বচ্ছ, দায়িত্বশীল ও নিরাপদ হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *