স্কুল পাঠ্য-সূচিতে কর শিক্ষা কেন জরুরি

প্রতি বছর অসংখ্য তরুণ স্কুল শেষ করে বড় জীবনে পা রাখে — কিন্তু তাদের মধ্যে অনেকেই হয়ত জানে না কর, আয়কর বা মূল্য-সংযুক্ত কর (ভ্যাট/ট্যাগ) কী, কখন, কেন এবং কিভাবে দিতে হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়া বা চাকরি পাওয়া পর্যন্ত কর-সংক্রান্ত জ্ঞান তাদের হাতে আসে না; অনেকেই প্রথম বেতন পেয়েই জানতে পারে নাকচ বা কেটে নেওয়া যেখানে কর হিসেবে। আর স্বনির্ভর বা ছোট ব্যবসায়ীরা কখনো জানে না করদায়িত্ব বা কর আইন।

এ কারণেই কর-শিক্ষা স্কুল পর্যায়ে শেখানো জরুরি। পড়াশোনা যাই— মানবিক, বিজ্ঞান, বাণিজ্য বা কলা—সবই ভবিষ্যতে আয় বা উপার্জন হতে পারে। উপার্জন শুরু হলে কর দায়িত্বও শুরু হয়। কর-বোধকে নাগরিক দায়িত্ব হিসেবে গড়ে তুলতে হলে, স্কুল থেকেই কর-শিক্ষা আর্থিক ও সমাজিক দায়িত্বের অংশ হতে হবে।

স্মরণ করুন: আমাদের রাস্তা, হাসপাতাল, স্কুল, পুলিশ, স্যানিটেশন, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ—সবকিছুর ভিত্তি হচ্ছে সরকার এবং রাজস্ব আয়। রাজস্ব না হলে, এসব সেবাই সম্ভব নয়। যখন যুবকরা বুঝবে, কর শুধুই বোঝা নয়, বরং দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণের জন্য দেওয়া একটি অংশ—তাহলে কর-দেয়াকে বোঝার নয়, সম্মান করার দৃষ্টিভঙ্গা গড়ে উঠবে।

বর্তমানে আমরা দেখি: অনেক পড়ুয়া বা চাকরিপ্রার্থী ‘ট্যাক্সেবল আয়’ কী, ইনভয়েসের গুরুত্ব কেন, কর রিটার্ন কিভাবে দিতে হয়,—এই বিষয়গুলো জানে না। VAT, উৎস-কর, কর ক্রেডিট, कट–কাটা, কর আইন—এগুলো অচেনা শব্দের মতো। ফলে বিভাগীয় ভুল, কর বোঝা ছাড়িয়ে ফেলা, বা অন্যায় করদায়িত্ব থেকে বঞ্চনার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়।

স্কুলে অল্প সময়েই হলেও কর-শিক্ষা শুরু করলে, ভবিষ্যতের করদাতাদের মধ্যে দায়িত্ববোধ, আর্থিক সচেতনতা ও নাগরিক সচেতনতা গড়ে উঠবে। যারা চাকরি করবে, ফ্রিল্যান্সিং করবে, স্বাধীন ব্যবসা শুরু করবে—তাদের কর-দায়িত্ব বুঝে কাজ করার সুযোগ পাবেন। এমনকি তারা বাড়ির বড়দের কর রিটার্নে সাহায্য করতে পারবে।

কর-শিক্ষা মূল শিক্ষাক্রমে অন্তর্ভুক্ত করলে স্বল্প বা দীর্ঘমেয়াদে করযোগ্যতা বাড়বে, সরকারির রাজস্ব প্রক্রিয়া সহজ হবে, মুশকিলস্কুল কর আইন বোঝা যাবে। এর ফলে কর পালানোর সম্ভাবনা কমবে, কর দরিদ্র বা ছোট ব্যবসায়ীদের ওপর আর যৌনভাবের বোঝা পড়বে না।

যেখানে আমরা গণিত, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ভাষা শেখাই, সেখানে কর-শিক্ষাও সেই তালিকায় থাকা উচিত। কারণ কর-বোধ এবং কর-জ্ঞান নাগরিক জীবনের অংশ, আর সমাজ ও রাষ্ট্র পরিচালনার গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী। আগামী প্রজন্মকে কর-দায়ী, দায়িত্বশীল, সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে হলে, স্কুল থেকেই শুরু করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *