ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো (ডিআরসি) আবারও রুয়ান্ডার বিরুদ্ধে শান্তিচুক্তি ভঙ্গের অভিযোগ তুলেছে। দেশটির প্রেসিডেন্ট ফেলিক্স তশিসেকেদি সংসদে বলেন, সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল, সেটি স্বাক্ষরের অল্প সময়ের মধ্যেই রুয়ান্ডা সমর্থিত M23 বিদ্রোহীরা পূর্ব কঙ্গোর বিভিন্ন এলাকায় আক্রমণ চালিয়েছে।
তশিসেকেদির দাবি, চুক্তির পরদিনই দক্ষিণ কিভুর কয়েকটি স্থানে ভারী অস্ত্র ব্যবহার করে হামলা হয়। এসব হামলায় গ্রাম, বাণিজ্যকেন্দ্র ও যোগাযোগপথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এবং বহু মানুষ নিরাপত্তার খোঁজে বাড়িঘর ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, কয়েকটি সীমান্তবর্তী এলাকা এখনো অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে।
এদিকে, পূর্বাঞ্চলের উভিরা শহরসহ বিভিন্ন স্থানে M23 বিদ্রোহীরা অগ্রসর হচ্ছে বলে জানা গেছে। বিদ্রোহীদের এই অগ্রযাত্রা বুরুন্ডি সীমান্তের পরিস্থিতিকেও আরও উত্তেজনাপূর্ণ করে তুলেছে। সংঘর্ষের ফলে অসংখ্য পরিবার রাতারাতি সবকিছু ছেড়ে পালিয়ে যাচ্ছে, এবং অঞ্চলজুড়ে মানবিক সংকট আরও গুরুতর হয়ে উঠছে।
এলাকায় অভিযানের সময় গোলা ও গ্রেনেড হামলার ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে। এতে বহু বেসামরিক মানুষের মৃত্যু ও আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। অনেক গ্রামে হাসপাতাল ও খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
যদিও আন্তর্জাতিক মহলের মধ্যস্থতায় করা শান্তিচুক্তির লক্ষ্য ছিল সংঘর্ষ কমানো, বাস্তবে তার কোনো সুফল দেখা যাচ্ছে না। বিশ্লেষকদের মতে, চুক্তিতে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর ভূমিকা স্পষ্ট না থাকায় এটি মাঠপর্যায়ে কার্যকর হয়নি। বিদ্রোহীদের শক্ত অবস্থান, রুয়ান্ডার বিরুদ্ধে অভিযোগ, এবং কঙ্গোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি — সব মিলিয়ে চুক্তি কেবল কাগজে রয়ে গেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলো উদ্বেগ জানিয়ে বলছে, পূর্ব কঙ্গোর বেসামরিক জনগণ আবারও রক্তাক্ত সহিংসতার শিকার হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে রুয়ান্ডার ওপর, যাতে তারা সংঘাতে কোনো ধরনের ভূমিকা না রাখে এবং শান্তি প্রক্রিয়াকে সম্মান করে।
বর্তমানে পরিস্থিতি যে দিকেই মোড় নিচ্ছে, তা ইঙ্গিত দিচ্ছে — কঙ্গোর পূর্বাঞ্চল আবারও বড় ধরনের সংঘাতের ঝুঁকিতে রয়েছে। মানুষের জীবন, নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
