নিউ ইয়র্ক সিটির নবনির্বাচিত মেয়র জোহরান মামদানি দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই ফিলিস্তিনপন্থী এবং মানবাধিকার কর্মীদের ব্যাপক প্রশংসা কুড়াচ্ছেন। ২ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, মেয়র মামদানি তার পূর্বসূরি এরিক অ্যাডামসের জারি করা বেশ কিছু ইসরায়েলপন্থী এবং ফিলিস্তিনবিরোধী নির্বাহী আদেশ বা ডিক্রি আনুষ্ঠানিকভাবে বাতিল করেছেন। এই পদক্ষেপকে নিউ ইয়র্কের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে ফিলিস্তিনিদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার বিভিন্ন সংগঠন এবং নাগরিক অধিকার কর্মীরা মামদানির এই সিদ্ধান্তকে ‘ন্যায়বিচারের পথে বড় জয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বাতিল করা ডিক্রিগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি প্রকাশে বিধিনিষেধ এবং ইসরায়েলের সমালোচনাকে সংজ্ঞায়িত করার বিতর্কিত নীতিমালা। এরিক অ্যাডামসের শাসনামলে ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন বা প্রতিবাদ কর্মসূচির ওপর কঠোর নজরদারি এবং কিছু ক্ষেত্রে প্রশাসনিক বাধা আরোপের অভিযোগ ছিল। মামদানি এই নীতিগুলো বাতিল করে ঘোষণা করেছেন যে, নিউ ইয়র্ক সিটিতে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা সবার জন্য সমান এবং কোনো বিশেষ গোষ্ঠী বা রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষায় নাগরিকদের কন্ঠরোধ করা হবে না। তার এই ঘোষণায় বিশেষভাবে উচ্ছ্বসিত হয়েছেন ফিলিস্তিনপন্থী ইহুদি গোষ্ঠীগুলো এবং মুসলিম কমিউনিটির নেতারা।
ফিলিস্তিনপন্থী আইনজীবী এবং অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, মামদানির এই পদক্ষেপ কেবল নীতি পরিবর্তন নয়, বরং এটি নিউ ইয়র্ক সিটির প্রশাসনিক কাঠামোর ভেতরে দীর্ঘদিনের পক্ষপাতের অবসান ঘটাবে। ‘প্যালেস্টাইন লিগ্যাল’-এর মতো সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে, গত কয়েক বছর ধরে যারা ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বলতে গিয়ে প্রশাসনিক হয়রানির শিকার হয়েছেন, তারা এখন কিছুটা স্বস্তি পাবেন। মামদানি নিজেও একজন প্রগতিশীল নেতা হিসেবে পরিচিত এবং তিনি বারবার গাজায় চলমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে মানবিক অবস্থানের ওপর জোর দিয়ে আসছেন। তার এই দ্রুত পদক্ষেপ প্রমাণ করে যে তিনি তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি রক্ষায় বদ্ধপরিকর।
তবে মামদানির এই সিদ্ধান্তের বিপরীতে ইসরায়েলপন্থী লবি এবং কিছু রাজনৈতিক মহলে অসন্তোষ ও সমালোচনা তৈরি হয়েছে। তারা মনে করছেন, এই ডিক্রিগুলো বাতিলের ফলে সিটিতে ইহুদিবিদ্বেষ বা সেমিটিজম বৃদ্ধি পাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এই সমালোচনার জবাবে মেয়র মামদানি স্পষ্ট করেছেন যে, তিনি সব ধরনের ঘৃণ্য বক্তব্য এবং সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছেন, কিন্তু ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানানোকে অপরাধ হিসেবে দেখার কোনো সুযোগ নেই। আন্তর্জাতিক ও স্থানীয় রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মামদানির এই পদক্ষেপ তাকে একজন শক্তিশালী এবং স্বাধীনচেতা নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে, যার প্রভাব আগামী দিনগুলোতে নিউ ইয়র্কের রাজনীতিতে আরও স্পষ্টভাবে অনুভূত হবে।
