সুদানে তীব্র লড়াইয়ের মাঝে আরএসএফ-এর সাথে দক্ষিণ সুদানিদের অংশগ্রহণের প্রমাণ

সুদানে সেনাবাহিনী এবং আধাসামরিক বাহিনী র‍্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস (আরএসএফ)-এর মধ্যে চলমান ভয়াবহ যুদ্ধের মাঝে এক নতুন চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, আরএসএফ-এর পক্ষে লড়াইরত অবস্থায় বেশ কয়েকজন দক্ষিণ সুদানি নাগরিককে বন্দি করেছে সুদানি সেনাবাহিনী (এসএএফ)। মধ্য সুদানের উত্তর কর্দোফান রাজ্যের কাজকিল এবং আল-রায়াস শহরে গত বৃহস্পতিবার এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের পর সেনাবাহিনী অন্তত ১০ জন দক্ষিণ সুদানি যোদ্ধাকে আটক করতে সক্ষম হয়। এই ঘটনাটি সুদানের অভ্যন্তরীণ যুদ্ধে প্রতিবেশী দেশের নাগরিকদের সরাসরি জড়িত থাকার বিষয়টি আবারও সামনে এনেছে।

সুদানি সামরিক বাহিনীর সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, আটককৃত ব্যক্তিদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও প্রমাণ পাওয়া গেছে যা প্রমাণ করে যে তারা আরএসএফ-এর হয়ে অর্থের বিনিময়ে বা অন্য কোনো স্বার্থে যুদ্ধে অংশ নিচ্ছিল। এই ঘটনার পর সুদান সরকার দক্ষিণ সুদান প্রশাসনের কাছে আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। খার্তুমের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, তারা দক্ষিণ সুদান সরকারকে সরকারিভাবে এই প্রমাণগুলো সরবরাহ করবে যাতে করে তাদের নাগরিকদের সুদানের অভ্যন্তরীণ লড়াইয়ে অংশগ্রহণ বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়। এর আগে বিভিন্ন সময়ে বিদেশি যোদ্ধাদের আরএসএফ-এর পক্ষে লড়াই করার অভিযোগ উঠলেও এবার হাতেনাতে আটকের ঘটনা বিষয়টিকে কূটনৈতিকভাবে স্পর্শকাতর করে তুলেছে।

একই দিনে সুদানের যুদ্ধের ময়দানে আরেকটি বড় ঘটনা ঘটেছে। সেন্ট্রাল দারফুর রাজ্যের রাজধানী জালিঞ্জেই-এর কাছে সুদানি সেনাবাহিনীর এক ড্রোন হামলায় আরএসএফ প্রধান মোহাম্মদ হামদান দাগালোর (হ্যামেডটি) নিরাপত্তা উপদেষ্টা হামিদ আলী আবুবকর নিহত হয়েছেন। আরএসএফ-এর নিরাপত্তা উপদেষ্টা আল-বাশা তাবিক এই মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছেন। হামিদ আলী কেবল হ্যামেডটির উপদেষ্টাই ছিলেন না, বরং তিনি আরএসএফ-এর গুরুত্বপূর্ণ সামরিক ইউনিট ‘আল-সাইফ আল-বাত্তার’-এর নেতৃত্বেও ছিলেন। এই ড্রোন হামলায় তার বেশ কয়েকজন সহযোগীও প্রাণ হারিয়েছেন। আরএসএফ একে একটি ‘হত্যাকাণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করে এর জন্য সেনবাহিনীকে চরম মূল্য দিতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

সুদানের তিন কর্দোফান রাজ্য—উত্তর, পশ্চিম এবং দক্ষিণ বর্তমানে যুদ্ধের প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা এই অবিরাম লড়াইয়ের ফলে হাজার হাজার পরিবার তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। বিশেষ করে উত্তর দারফুরের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠেছে, যেখানে আরএসএফ-এর অব্যাহত আক্রমণের ফলে উমব্রো এলাকায় অন্তত ৬,৫০০ পরিবার বাস্তুচ্যুত হয়েছে। জাতিসংঘ ইতিমধ্যে এই অঞ্চলটিকে ‘ক্রাইম সিন’ বা অপরাধের চারণভূমি হিসেবে বর্ণনা করেছে। ২০২৩ সালের এপ্রিলে শুরু হওয়া এই গৃহযুদ্ধ কেবল সুদানের ভেতরেই নয়, বরং এখন প্রতিবেশী দেশগুলোর নাগরিকদের অন্তর্ভুক্তির মাধ্যমে এক বৃহত্তর আঞ্চলিক সংকটের রূপ নিচ্ছে, যা শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাকে আরও ক্ষুণ্ণ করছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *