আফ্রিকান কাপ অব নেশনস (এএফসিওএন) ২০২৫-এর শেষ ১৬-র লড়াইয়ে এক অসম সমীকরণের মুখোমুখি হচ্ছে দুই দল—একদিকে শিরোপার অন্যতম দাবিদার শক্তিশালী সেনেগাল এবং অন্যদিকে টুর্নামেন্টের সর্বনিম্ন র্যাঙ্কিংধারী দল সুদান। শনিবার মরক্কোর তানজিয়ারে ইবনে বতুতা স্টেডিয়ামে এই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি অনুষ্ঠিত হবে। সেনেগাল গ্রুপ ‘ডি’-র শীর্ষে থেকে নকআউট নিশ্চিত করেছে এবং সাদিও মানে ও নিকোলাস জ্যাকসনের মতো বিশ্বসেরা আক্রমণভাগ নিয়ে তারা এই ম্যাচে নিরঙ্কুশ ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে। অন্যদিকে, যুদ্ধবিধ্বস্ত সুদান দীর্ঘ ১৪ বছর পর নকআউটে পৌঁছে দেশটির মানুষের জন্য এক চিলতে হাসির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সুদানের জন্য এই পর্যায়ে পৌঁছানো ছিল এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। ২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে দেশটিতে চলমান গৃহযুদ্ধ কয়েক হাজার মানুষের প্রাণ কেড়ে নিয়েছে এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে বাস্তুচ্যুত করেছে। এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যেও সুদানি ফুটবলাররা তাদের জাতীয় দলের হয়ে লড়ে যাচ্ছেন। সুদান গ্রুপ পর্বে ইকুয়েটরিয়াল গিনিকে পরাজিত করে সেরা তৃতীয় হওয়া দলগুলোর একটি হিসেবে নকআউটে জায়গা করে নিয়েছে। দলটির গোলরক্ষক মোহাম্মদ আবুজা জানিয়েছেন যে, দেশের কঠিন সময়ে তাদের এই জয়গুলো মানুষের মনোবল বাড়াতে সাহায্য করছে। তবে নকআউটে সেনেগালের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে লড়াই করা তাদের জন্য হবে এক ঐতিহাসিক পরীক্ষা।
সেনেগাল বর্তমানে আফ্রিকার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ র্যাঙ্কিংধারী দল এবং টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত তারা অপরাজিত। নিকোলাস জ্যাকসন এবং সাদিও মানে গ্রুপ পর্বে দুর্দান্ত ফর্মে ছিলেন, যারা সেনেগালের আক্রমণভাগকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলেছেন। তবে এই ম্যাচে সেনেগাল তাদের অভিজ্ঞ অধিনায়ক কালিদু কুলিবালিকে পাচ্ছে না, যিনি শেষ গ্রুপ ম্যাচে লাল কার্ড পাওয়ায় নিষিদ্ধ রয়েছেন। সেনেগালের কোচ পেপে থিয়াউ আশাবাদী যে তার দলে যথেষ্ট গভীরতা রয়েছে এবং কুলিবালির অনুপস্থিতি তারা কাটিয়ে উঠতে পারবেন। সেনেগালের লক্ষ্য হলো ২০২১ সালের শিরোপা পুনরুদ্ধারের পথে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়া।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সেনেগাল এবং সুদান এর আগে সাতবার একে অপরের মুখোমুখি হয়েছে, যার মধ্যে চারবার সেনেগাল জয়ী হয়েছে এবং তিনবার ম্যাচ ড্র হয়েছে। সুদান এখন পর্যন্ত সেনেগালকে হারানোর গৌরব অর্জন করতে পারেনি। এবারের এএফসিওএন-এ সুদান সবচেয়ে বেশি ৬টি গোল হজম করেছে, যা সেনেগালের শক্তিশালী আক্রমণভাগের সামনে তাদের রক্ষণভাগকে দুশ্চিন্তায় ফেলছে। তবে ফুটবলে যে কোনো সময় অঘটন ঘটতে পারে এবং সুদান সেই অঘটন ঘটিয়ে বিশ্বকে চমকে দিতে চায়। এই ম্যাচের জয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে মালি অথবা তিউনিসিয়ার মুখোমুখি হবে। পুরো ফুটবল বিশ্ব এখন এই ডেভিড বনাম গোলিয়াথের লড়াইয়ের অপেক্ষায় প্রহর গুনছে।
