বরিশালের গৌরনদী পৌরসভা মেয়র পদের উপ-নির্বাচনে ভোটগ্রহণ চলাকালে বিভিন্ন কেন্দ্রের বাইরে ভোটারদের আসতে বাধা প্রদানকে কেন্দ্র করে ব্যাপক সহিংসতা, হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকাল থেকে দফায় দফায় চলা এই সংঘর্ষে কাউন্সিলর ও নারীসহ অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। গুরুতর আহত দুজনকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শেবাচিম) ভর্তি করা হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ ও আহতদের তথ্য: স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, ভোট শুরুর আগেই সকাল পৌনে ৮টার দিকে পালরদী, টরকী, হরিসোনা ও কাসেমাবাদ এলাকার বিভিন্ন সড়কে মোবাইল ফোন প্রতীকের প্রার্থীর সমর্থকরা অবস্থান নেয়। তারা ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দিলে নারিকেল গাছ প্রতীকের সমর্থকদের সাথে সংঘর্ষ শুরু হয়। আহতদের মধ্যে রয়েছেন ৪নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মো. লিটন বেপারী, সংরক্ষিত আসনের কাউন্সিলর খায়রুন নাহার, ৯নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগের সভাপতি মাসুম সরদার, সোহান খান, সাত্তার মোল্লা (৭০), সুখমনি বেগম (২৯) ও ময়না বেগমসহ আরও কয়েকজন।
পাল্টা-পাল্টি অভিযোগ:
-
কাউন্সিলর লিটন বেপারী: তিনি অভিযোগ করেন, উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক লুৎফর রহমান ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে বাধা দিচ্ছিলেন। বাধা দিতে গেলে তিনি বোমা হামলা চালিয়ে লিটন ও তার সমর্থকদের পিটিয়ে ও কুপিয়ে জখম করেন।
-
সংরক্ষিত কাউন্সিলর খায়রুন নাহার: তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে ছাত্রলীগ নেতা লুৎফর ও তার অনুসারীরা তাদের ওপর হামলা চালায় এবং নারী ভোটারদেরও মারধর করে।
-
ছাত্রলীগ নেতা লুৎফর রহমান: তিনি সকল অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেন, কোনো বোমা হামলার ঘটনা ঘটেনি, কেবল সামান্য হাতাহাতি হয়েছে যা প্রশাসন নিয়ন্ত্রণ করেছে।
-
মাসুম সরদার ও সোহান খান: ৯নং ওয়ার্ডে ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার পথে কাসেমাবাদ এলাকায় মাসুম সরদার হামলার শিকার হন। এর পাল্টা হিসেবে তার সমর্থকরা সোহান খানকে কুপিয়ে জখম করে। বর্তমানে তারা দুজনই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং একে অপরকে দোষারোপ করছেন।
প্রার্থীদের প্রতিক্রিয়া: বিজয়ী প্রার্থী মো. আলাউদ্দিন ভূঁইয়া (নারিকেল গাছ) অভিযোগ করেন, তার ভোটারদের পথে পথে বাধা দেওয়া হয়েছে এবং বোমা হামলা চালিয়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করা হয়েছে। অন্যদিকে, নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী এইচ. এম. জয়নাল আবেদীন (মোবাইল ফোন) দাবি করেন, ফিশারি কেন্দ্রে তার এজেন্টদের বের করে দেওয়া হয়েছে। তবে ওই কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার আবুল বাশার জানান, জয়নাল আবেদীন সেখানে কোনো এজেন্টই পাঠাতে পারেননি।
পুলিশের বক্তব্য: গৌরনদী মডেল থানার পরিদর্শক (ওসি তদন্ত) মো. মাজাহারুল ইসলাম জানান, কেন্দ্রের অভ্যন্তরে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। তবে কেন্দ্রের বাইরে কিছু বিচ্ছিন্ন সংঘর্ষ হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি; অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
