পোস্টার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে গৌরনদীতে বিএনপি-যুবদল সংঘাত, আহত ১৫

বরিশালের গৌরনদীতে ঈদুল ফিতরের শুভেচ্ছা সংবলিত পোস্টার ছিঁড়ে ফেলাকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও যুবদলের দুই গ্রুপের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এই সহিংসতায় নারীসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন নেতাকর্মী জখম হয়েছেন। সংঘর্ষ চলাকালীন পাঁচটি মোটরসাইকেল ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটে। বৃহস্পতিবার বিকেলে উপজেলার নলচিড়া ইউনিয়নের পিঙ্গলাকাঠি বাজার সংলগ্ন এলাকায় এই উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা এম. জহিরউদ্দিন স্বপনের ঈদ শুভেচ্ছা পোস্টারকে কেন্দ্র করেই মূলত এই বিরোধের সূত্রপাত।

ঘটনার বিবরণে জানা যায়, প্রকৌশলী বেল্লাল শিকদার ও তার স্ত্রী ইলমা ইয়াসমিন আত্মীয়ের বাড়িতে যাওয়ার পথে অসাবধানতাবশত একটি পোস্টারের অংশ ছিঁড়ে ফেললে সেখানে উপস্থিত যুবদল নেতা সোহেল মোল্লা ক্ষুব্ধ হন। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির এক পর্যায়ে বিষয়টি হাতাহাতিতে রূপ নেয়। পরবর্তীতে এর জের ধরে বিকেলে সোহেল মোল্লার নেতৃত্বে একদল সমর্থক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে পিঙ্গলাকাঠি এলাকায় বিএনপি কর্মী আলম শিকদারের বাড়িতে হামলা চালায়। তখন সাবেক বিএনপি নেতা হারুন শিকদারের অনুসারীরা পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তুললে উভয় পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে ৭ জন নারীসহ দুই পক্ষের অনেক নেতাকর্মী আহত হন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে হামলাকারীরা মোটরসাইকেল রেখে পালিয়ে গেলে বিক্ষুব্ধ জনতা সেগুলো ভাঙচুর করে।

এই সংঘর্ষে গুরুতর আহত ৫ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে এবং বাকি ৮ জনকে স্থানীয় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে। আহতদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দল, যুবদল ও ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মী রয়েছেন। এদিকে অভিযুক্ত যুবদল নেতা সোহেল মোল্লা এই ঘটনায় নিজের সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেছেন। গৌরনদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়। এই ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *