বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলায় ব্র্যাকের ‘শিখা’ প্রকল্পের কার্যক্রম পরিচালনার লক্ষ্যে এক উপজেলা অরিয়েন্টেশন সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এই সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারিহা তানজিন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত)। এ ছাড়া সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা, সমাজসেবা কর্মকর্তা, যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা, বিভিন্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক এবং সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের অর্থায়নে পরিচালিত ব্র্যাকের এই ‘শিখা’ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো নারী ও কন্যা শিশুদের বিরুদ্ধে জেন্ডার ভিত্তিক সহিংসতা, বুলিং এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ করা। চার বছর মেয়াদী এই প্রকল্পটি ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে ২০২৯ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে বাস্তবায়িত হবে। বরিশালসহ ঢাকা, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, নারায়ণগঞ্জ এবং রাজশাহী—এই ছয়টি জেলায় প্রকল্পটি কাজ করবে। এর আওতায় ২৭০টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বিশ্ববিদ্যালয়, তৈরি পোশাক কারখানা, গণপরিবহন ও বিভিন্ন জনসমাগমস্থলে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রতিকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কার্যক্রম চালানো হবে।
সভার মুক্ত আলোচনা পর্বে সরকারি কর্মকর্তা, শিক্ষক এবং সাংবাদিকরা অংশ নেন। বক্তারা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি, বাল্যবিবাহ এবং বুলিং রোধে কীভাবে সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায় এবং বিদ্যালয়গুলোকে একটি নিরাপদ ও সহিংসতামুক্ত কর্মস্থল হিসেবে গড়ে তোলা যায়, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। প্রকল্পের প্রতিনিধিরা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের পথে ঝুঁকির মানচিত্র তৈরি এবং যৌন হয়রানি প্রতিরোধ কমিটির কার্যক্রম আরও জোরালো করার বিষয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন।
সভায় জেলা পর্যায়ের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ছাড়াও ব্র্যাকের জেলা সমন্বয়ক বিভাষ চন্দ্র তরফদার, কারিগরি ব্যবস্থাপক মোঃ তৌহিদুর রহমান, প্রকল্প কর্মকর্তা অনিক বিশ্বাস ও কিশোর মিস্ত্রি এবং ব্র্যাকের অন্যান্য প্রতিনিধি ও স্বেচ্ছাসেবীরা উপস্থিত ছিলেন। প্রকল্পটি স্থানীয় সরকার, জনপ্রতিনিধি এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে নিয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ও স্থানীয় কমিউনিটিতে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে গণসচেতনতা, আইনি সহায়তা এবং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
