চট্টগ্রামের রাউজানে সম্পত্তির উত্তরাধিকার নিয়ে পারিবারিক বিবাদের এক চরম অমানবিক চিত্র ফুটে উঠেছে। এক ব্যক্তির মৃত্যুর পর তার জমিজমা ও সম্পদ নিয়ে দুই পক্ষের সন্তানদের মধ্যে বিরোধের জেরে বাবার মরদেহ দীর্ঘ ৩৬ ঘণ্টা হিমাগারে (ফ্রিজার) পড়ে থাকে। শেষ পর্যন্ত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ঘটনার সমাধান হলে দাফন সম্পন্ন হয়।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার পূর্বমেখল এলাকার ৫ নম্বর ওয়ার্ডে। মৃত ব্যক্তির নাম মো. সেকান্দার, যার বয়স হয়েছিল ৭০ বছর। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, রোববার সকালে তিনি নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। সেকান্দার মিয়ার দুই স্ত্রী এবং দুই সংসারে মোট আটজন সন্তান রয়েছেন। তার মৃত্যুর পরপরই শুরু হয় চরম বিশৃঙ্খলা।
মরহুমের প্রথম পক্ষের সন্তানদের অভিযোগ, তাদের বাবা জীবিত থাকাকালীন সব সম্পত্তি দ্বিতীয় স্ত্রী এবং তার সন্তানদের নামে লিখে দিয়ে গেছেন। প্রথম পক্ষের সন্তানদের দাবি, তাদের বঞ্চিত করে এই সম্পদ হস্তান্তর করা হয়েছে। এই ক্ষোভ থেকে তারা বাবার দাফন কাজে বাধা প্রদান করেন এবং প্রাপ্য সম্পদের ভাগ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত মরদেহ দাফন করতে দিতে অস্বীকৃতি জানান। অন্যদিকে দ্বিতীয় পক্ষের সন্তানেরা দ্রুত দাফন করতে চাইলেও বিরোধের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে।
মরদেহটি একটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ফ্রিজারে বাড়ির সামনে রাখা হয়। দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও কোনো পক্ষই ছাড় দিতে রাজি না হওয়ায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। প্রতিবেশী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়।
পুলিশ উভয় পক্ষের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা চালিয়ে তাদের আশ্বস্ত করে যে, আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পদের বিষয়টি সমাধান করা হবে। পুলিশের মধ্যস্থতায় এবং স্থানীয়দের চাপে প্রায় ৩৬ ঘণ্টা পর উভয় পক্ষ দাফনের বিষয়ে একমত হয়। এরপর সোমবার মরদেহটি পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
বাবার শেষ বিদায়ে সন্তানদের এমন আচরণে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই একে চরম অমানবিক এবং নৈতিক অবক্ষয় হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
