ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনের সামনে সাম্প্রতিক এক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ঢাকা ও দিল্লির মধ্যে নতুন করে কূটনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাকে ঘিরে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।
ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল দাবি করেছেন, হাইকমিশনের সামনে বিক্ষোভ নিয়ে বাংলাদেশের কিছু গণমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করা হচ্ছে। তার মতে, ২০ থেকে ২৫ জনের একটি ছোট দল সেখানে জড়ো হয়ে প্রতিবাদ জানালেও এতে দূতাবাসের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হয়নি বা কোনো ধরনের ঝুঁকি তৈরি হয়নি। ভারত সরকার একে একটি সাধারণ বিক্ষোভ হিসেবে বর্ণনা করলেও বাংলাদেশ পক্ষ বিষয়টিকে ভিন্নভাবে দেখছে।
অন্যদিকে, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, নয়াদিল্লির মতো একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং সুরক্ষিত এলাকায় কীভাবে একদল উগ্রপন্থী বিক্ষোভকারী হাইকমিশনের একদম কাছাকাছি পৌঁছে যেতে পারল? দূতাবাস কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, বিক্ষোভকারীরা বাংলাদেশবিরোধী স্লোগান দেওয়ার পাশাপাশি বাংলাদেশের হাইকমিশনারকেও ব্যক্তিগতভাবে হুমকি প্রদান করেছেন।
জুলাই অভ্যুত্থানের পর থেকে বাংলাদেশ ও ভারতের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের মধ্যে যে টানাপোড়েন শুরু হয়েছে, এই ঘটনা তাতে নতুন মাত্রা যোগ করল। একদিকে ভারত একে গুরুত্বহীন এবং অতিরঞ্জিত প্রচার হিসেবে দেখছে, অন্যদিকে বাংলাদেশ বিষয়টিকে দূতাবাসের নিরাপত্তার চরম লঙ্ঘন হিসেবে বিবেচনা করছে। এই পাল্টাপাল্টি অবস্থানের কারণে দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে অস্বস্তি আরও বাড়ছে।
