ভারতের বৃহত্তম বেসরকারি এয়ারলাইন ইন্ডিগো গত কয়েকদিন ধরে ব্যাপক ফ্লাইট বাতিল ও বিলম্বের কারণে দেশজুড়ে যাত্রীদের মধ্যে তীব্র ভোগান্তি তৈরি করেছে। দিল্লি, মুম্বাই, বেঙ্গালুরুসহ প্রধান আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বিমানবন্দরগুলোতে শত শত যাত্রী ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও বিমানে উঠতে পারেননি।
হঠাৎ কেন এত ফ্লাইট বাতিল?
ইন্ডিগোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বিমানবন্দরের এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল–সংক্রান্ত সমস্যা, ঘন কুয়াশা এবং ক্রু-সংকটের কারণে ফ্লাইটগুলো বাতিল করা হয়েছে।
কোম্পানির দাবি, শীত মৌসুমে ঘন কুয়াশার কারণে বিভিন্ন বিমানবন্দরে রানওয়ে ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে, যার ফলে একের পর এক ফ্লাইট বিলম্বিত হচ্ছে। এতে ক্রুদের ডিউটি–টাইম সীমা অতিক্রম হয়ে যাচ্ছে এবং শেষমেশ ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হতে হচ্ছে।
যাত্রীরা বলছেন ‘অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা’
অনেক যাত্রী অভিযোগ করেছেন যে ইন্ডিগো সময়মতো তথ্য না দেওয়ায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বেশিরভাগই বিমানবন্দরে গিয়ে জেনেছেন তাদের ফ্লাইট বাতিল বা পুনঃনির্ধারণ করা হয়েছে।
যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন—এয়ারলাইন কর্তৃপক্ষ যথেষ্ট প্রস্তুতি নেয়নি এবং যাত্রীদের দুর্ভোগের বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া হয়নি।
সরকারের নজরদারি ও সম্ভাব্য তদন্ত
ভারতের বেসামরিক বিমান পরিবহন মন্ত্রণালয় ঘটনাটি খতিয়ে দেখার নির্দেশ দিয়েছে। বিশেষ করে, ক্রু–সংকট ও বিমানবন্দরের সীমাবদ্ধতার বিষয়ে ইন্ডিগো যথাযথভাবে প্রস্তুত ছিল কি না, তা পর্যালোচনা করা হতে পারে।
এয়ারলাইনের অবস্থান
ইন্ডিগোর বিবৃতিতে যাত্রীদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করা হয়েছে এবং বাতিলকৃত ফ্লাইটের যাত্রীদের দ্রুত পরবর্তী ফ্লাইটে সামঞ্জস্য করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। এছাড়া, ক্ষতিগ্রস্ত যাত্রীদের জন্য রিফান্ড ও রিশিডিউলিং সহজ করার কথাও বলা হয়েছে।
ভোগান্তির এখনও শেষ নেই
বিশেষজ্ঞদের মতে, শীত মৌসুমে আবহাওয়ার কারণে ফ্লাইট স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে। ফলে আগামী কয়েকদিন ইন্ডিগোসহ অন্যান্য এয়ারলাইনের যাত্রীদেরও আরও সতর্ক ও প্রস্তুত থাকতে হবে।
