গাজায় ইসরায়েলি ত্রাণ বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের দাবিতে আট দেশের সম্মিলিত আহ্বান

গাজা উপত্যকায় চলমান তীব্র মানবিক সংকটের মুখে ইসরায়েলের আরোপিত ত্রাণ বিধিনিষেধ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে বিশ্বের আটটি গুরুত্বপূর্ণ দেশ। ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি কাতার, তুরস্ক, মিশর, জর্ডান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, পাকিস্তান এবং ইন্দোনেশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা এক যৌথ বিবৃতিতে এই আহ্বান জানান। তারা সতর্ক করে বলেছেন যে, গাজায় মানবিক সহায়তার ওপর ইসরায়েলের অব্যাহত কড়াকড়ি এবং আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ফলে সেখানে ফিলিস্তিনিদের জীবন এক চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। বিশেষ করে শীতকালীন বৈরী আবহাওয়া এবং বৃষ্টির কারণে বাস্তুচ্যুত মানুষদের দুর্ভোগ এখন অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।

যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো উল্লেখ করেছে যে, বন্যায় প্লাবিত ক্যাম্প, ক্ষতিগ্রস্ত তাবু এবং তীব্র শীতের সাথে অপুষ্টির সংমিশ্রণ সাধারণ মানুষের জীবনের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন ইসরায়েলের ওপর কার্যকর চাপ সৃষ্টি করা হয় যাতে তারা তাবু, শীতবস্ত্র, চিকিৎসাসামগ্রী, পরিষ্কার পানি এবং জ্বালানির মতো জরুরি পণ্য বিতরণে সব ধরনের প্রশাসনিক ও সামরিক বাধা সরিয়ে নেয়। বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, গাজায় প্রয়োজনীয় ত্রাণ পৌঁছাতে না দেওয়া আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন এবং এটি একটি মানবসৃষ্ট বিপর্যয়কে আরও ঘনীভূত করছে।

এই দাবি এমন এক সময়ে এল যখন ইসরায়েল সরকার গাজা ও পশ্চিম তীরে কর্মরত ৩৭টি এনজিও বা বেসরকারি সংস্থার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের দাবি, এই সংস্থাগুলো নতুন রেজিস্ট্রেশন নীতিমালা মানতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে জাতিসংঘ এবং বিভিন্ন দেশ এই পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করে বলেছে যে, এটি ত্রাণ কার্যক্রমকে পুরোপুরি স্তব্ধ করে দেওয়ার একটি অজুহাত মাত্র। কাতার এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা আলাদাভাবে উল্লেখ করেছেন যে, মানবিক সহায়তা কোনো রাজনৈতিক হাতিয়ার হতে পারে না এবং গাজার সাধারণ মানুষের কাছে জীবন রক্ষাকারী সামগ্রী পৌঁছানো নিশ্চিত করা বিশ্বের প্রতিটি রাষ্ট্রের নৈতিক দায়িত্ব।

এদিকে গাজার অভ্যন্তরে পরিস্থিতি ক্রমেই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। বৃষ্টির পানিতে ড্রেনেজ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় সংক্রামক ব্যাধির বিস্তার বাড়ছে এবং হাসপাতালগুলোতে প্রয়োজনীয় ওষুধের অভাবে আহত ও অসুস্থ ব্যক্তিদের চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। আট দেশের এই জোট স্পষ্ট করে জানিয়েছে যে, গাজায় শান্তি ফেরাতে এবং সাধারণ মানুষের জীবন বাঁচাতে কেবল যুদ্ধবিরতিই যথেষ্ট নয়, বরং সেখানে ত্রাণবাহী ট্রাকের অবাধ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্ব নেতারা যদি এখনই কার্যকর পদক্ষেপ না নেন, তবে গাজায় এই শীতকাল এক ভয়াবহ মৃত্যুপুরীতে পরিণত হতে পারে বলে দেশগুলো আশঙ্কা প্রকাশ করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *