ইসলামের প্রথম তিন খলিফা—হজরত আবু বক্কর (রা.), হজরত ওমর (রা.) এবং হজরত ওসমান (রা.)-এর আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে নিজের তিন সন্তানের নাম রেখেছিলেন মাওলানা আব্দুল হাদি। সেই পরিবারেরই ছোট সন্তান ছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তক শহীদ শরিফ ওসমান বিন হাদি। সম্প্রতি এক শোকাবহ ঘটনায় তার মৃত্যুতে ঝালকাঠির নলছিটিসহ সারা দেশে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
পারিবারিক ঐতিহ্য ও জীবনকাল: ওসমান হাদির বাবা মরহুম মাওলানা আব্দুল হাদি ছিলেন একজন নিবেদিতপ্রাণ মাদরাসা শিক্ষক। তিনি তার সন্তানদের দ্বীনি শিক্ষা ও নৈতিক আদর্শে বড় করেছিলেন। হাদির বড় ভাই মাওলানা আবু বক্কর ছিদ্দিক বরিশালের গুঠিয়ার ঐতিহাসিক মসজিদের খতিব এবং মেজো ভাই ওমর ফারুক একজন ব্যবসায়ী। তিন ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সবার ছোট ওসমান হাদি ঝালকাঠির একটি সাধারণ টিনের ঘরে বড় হয়েছেন, যা প্রমাণ করে যে বিপ্লব কোনো অট্টালিকা নয়, বরং সাধারণ মানুষের ঘর থেকেই জন্ম নেয়।
শিক্ষা ও কর্মজীবন: ঝালকাঠির এন এস কামিল মাদরাসা থেকে প্রাথমিক শিক্ষা শেষে ওসমান হাদি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। মেধাবী এই শিক্ষার্থী জীবন সংগ্রামে টিকে থাকতে টিউশনি এবং বিভিন্ন কোচিং সেন্টারে শিক্ষকতা করেছেন। সবশেষ তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক সন্তানের জনক।
আন্দোলন ও শাহাদাত: ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার আন্দোলনে ওসমান হাদি এক সাহসী কণ্ঠস্বর হিসেবে আবির্ভূত হন। ইনকিলাব মঞ্চের মাধ্যমে তিনি দেশের সার্বভৌমত্ব ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন। গত ১২ ডিসেম্বর নির্বাচনী প্রচারণা শেষে ফেরার পথে রাজধানীর পল্টনে দুষ্কৃতকারীদের গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। ২০ ডিসেম্বর জাতীয় কবির সমাধির পাশে তাকে সমাহিত করা হয়।
বিচারের দাবি: নলছিটির স্থানীয় বাসিন্দা এবং তার স্বজনরা এই মেধাবী ও সাহসী নেতার অকাল মৃত্যুতে গভীরভাবে শোকাহত। তারা অবিলম্বে এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। ওসমান হাদির বোন জামাই আমির হোসেন জানান, জনগণের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আর দেশের প্রতি দায়বদ্ধতাই ছিল তার জীবনের মূল শক্তি।
