ইকুয়েডরের একটি আদালত গত দুই দশক আগে শিশুদের জোরপূর্বক গুম করার অপরাধে দেশটির দুই প্রাক্তন সেনাসদস্যকে ৩৪ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেছেন। এই ঐতিহাসিক রায়ের মাধ্যমে দেশটির বিচারব্যবস্থা দীর্ঘ প্রতীক্ষিত ন্যায়বিচারের পথে এক ধাপ এগিয়ে গেল।
ঘটনাটি ঘটেছিল ২০০৪ সালে, যখন ইকুয়েডরের উত্তরাঞ্চলীয় এসমেরালদাস প্রদেশে সামরিক অভিযানের সময় দুই শিশুকে অপহরণ করে গুম করা হয়। অভিযোগ অনুযায়ী, ওই দুই সেনাসদস্য শিশুদের ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তাদের আর কোনো হদিস পাওয়া যায়নি। দীর্ঘ সময় ধরে চলা এই তদন্তে শেষ পর্যন্ত প্রমাণিত হয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় বাহিনীর সদস্যরা সরাসরি এই ঘটনার সাথে জড়িত ছিলেন।
মানবাধিকার সংস্থাগুলো এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে, এটি কেবল ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য নয়, বরং পুরো দেশের জন্য একটি বড় বিজয়। অনেক বছর ধরে ভুক্তভোগী পরিবারগুলো বিচার এবং সত্যের সন্ধানে লড়াই করে আসছিল। আদালতের রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে যে, শিশুদের গুম করা একটি মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং এর সাথে জড়িতদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না।
এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া চলাকালীন অনেক বাধা ও দীর্ঘসূত্রতা দেখা দিলেও, বর্তমান রায়ের ফলে ইকুয়েডরের সামরিক বাহিনীর ওপর একটি কঠোর বার্তা পৌঁছেছে যে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে কোনো অপরাধ করলে তাকে বিচারের মুখোমুখি হতেই হবে। সাজাপ্রাপ্তদের কারাদণ্ডের পাশাপাশি আদালত পরিবারগুলোকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশও প্রদান করেছেন।
