সরকার সম্প্রতি দেশের আর্থিক শাসন ও অর্থনৈতিক পরিচালনা আরও উন্নত করার লক্ষ্যে একটি নতুন পাঁচ বছর মেয়াদী পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এই পরিকল্পনার মাধ্যমে আর্থিক ব্যবস্থাপনা, রাজস্ব বৃদ্ধি, ব্যয়ের দক্ষতা, দায়‑দেনার সুষ্ঠু নিয়ন্ত্রণ এবং সার্বিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা আরও দৃঢ় করার অঙ্গীকার প্রকাশ করা হয়েছে।
নতুন পরিকল্পনায় সরকারি বাজেট, কর প্রশাসন, সরকারি খাতে হিসাব‑নিকাশ ও দায়‑দেনার কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ ও দায়িত্বশীল করার নানা উদ্যোগ রাখা হয়েছে। পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হচ্ছে অর্থের প্রবাহ ও ব্যবহারকে আরও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা, যেন সরকারি অর্থ সঠিক জায়গায় ব্যবহার হয় এবং অপচয় ও কলঙ্ক রোধ করা যায়।
এতে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়ানোর উপায়, সরকারি ব্যয়ের মনিটরিং ব্যবস্থা উন্নত করার পন্থা এবং স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আর্থিক প্রক্রিয়া আধুনিকীকরণের ধারা চিত্রায়িত করা হয়েছে। সরকারি কর্মকর্তারা আশা প্রকাশ করেছেন, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে এবং পর্যাপ্ত তহবিল সঞ্চয়ের মাধ্যমে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে গতি আসবে।
পরিকল্পনায় কর ব্যবস্থা ও প্রশাসনে পরিবর্তন আনা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতাসহ আর্থিক পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নের মধ্যে সমন্বয় বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে সরকারি তহবিলের অপব্যবহার কমবে এবং বছরের শেষে ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাব জনগণের কাছে সহজভাবে তুলে ধরা সম্ভব হবে।
অর্থমন্ত্রী এ ঘোষণা দিয়ে বলেন, “আমরা চাই দেশের অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতার মানদণ্ড আরো দৃঢ় হবে। এজন্য এই পরিকল্পনা অনুমোদন করা হয়েছে। এটি কার্যকর হলে রাজস্ব সংগ্রহ বৃদ্ধি পাবে, বাজেটের সুষম ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং দেশের সার্বিক আর্থিক পরিবেশ শক্তিশালী হবে।”
এই নতুন উদ্যোগকে ব্যবসায়ী সম্প্রদায়, অর্থনীতিবিদ ও বিশ্লেষকেরা স্বাগত জানিয়েছেন। তারা মনে করেন, অর্থনৈতিক শাসন ও পরিকল্পনার আধুনিকায়ন ও কার্যকর বাস্তবায়ন দেশকে বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় আরো এগিয়ে নিতে সক্ষম করবে এবং বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।
পরিকল্পনার কার্যক্রম ধাপে ধাপে বাস্তবায়িত হবে এবং এর ফলাফল নীতিনির্ধারকরা নিয়মিত মূল্যায়ন করবেন। তাদের লক্ষ্য, পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের আর্থিক শাসন ও ব্যবস্থাপনাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা এবং অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার একটি দৃঢ় ভিত্তি গড়ে তোলা।
