সত্তর ও আশ্লিষ্ট দশকে বাংলাদেশ স্বাধীনতার যুদ্ধের শেষে পাকিস্তান পরাজিত হলে এরই সঙ্গে শুরু হয় নতুন ধরনের রাজনৈতিক লড়াই—জ্ঞান ও তথ্যের জন্য যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্ব কমান্ড আত্মসমর্পণের পর প্রায় নব্বই হাজার পাকিস্তানি সেনাকে বন্দি করে নেওয়া হয় এবং তারা ভারতীয় শিবিরে পাঠানো হয়। এই বিপর্যয়ের মুখে পাকিস্তানের সরকার ভয় পায় যে বন্দি সৈনিকরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে দেশে পরিচালিত নৃশংসতার সত্য মুখ খোলার আগে আন্তর্জাতিক সমর্থন হারিয়ে ফেলবে। তাই তারা একটি রাজনৈতিক ও মানসিক প্রচারাভিযান শুরু করে তাৎক্ষণিকভাবে পোস্টাল মাধ্যম ব্যবহার করে নিজেদের বক্তব্য ছড়িয়ে দিতে শুরু করে।
এ সপ্তাহের একটি বিশ্লেষণ থেকে জানা গেছে, পাকিস্তান পরাজয়ের পর আন্তর্জাতিক চাপ ও অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক অস্থিরতার মোকাবেলায় ডাকটিকিট, ডাক স্টেশনারি এবং বিশেষ পোস্টকার্ডের মাধ্যমে “পিএাওডব্লিউ’ বা যুদ্ধ বন্দিদের মুক্তি দাবি তুলে ধরে একটি প্রচারাভিযান চালায়। এই প্রচারণায় ১৯৭৩ সালে পাকিস্তান পোস্ট অফিস বিশেষ ডিজাইন করা ডাকটিকিট ও তা ছাপানো পোস্টকার্ডে বন্দি সৈনিকদের কষ্ট ও বিশ্বমানবিকতার সচেতনতা বাড়ানোর বিষয় তুলে ধরে। এতে “নব্বই হাজার বন্দি সৈনিক ভারতে অবস্থান করছে” এমন বার্তা থাকত এবং মুক্তির জন্য আন্তর্জাতিক সহানুভূতির আহ্বান জানানো হত।
এ ধরনের পোস্টাল প্রচার নির্মিত নথি ইতিহাস গবেষকদের কাছে প্রমাণ সরূপ কাজ করছে, যে কিভাবে রাষ্ট্রগুলো সাধারণ যোগাযোগ মাধ্যমকেও রাজনৈতিক আর কূটনৈতিক প্রতিযোগিতায় ব্যবহার করে থাকে। সেই সময়কার প্রচারণা শেষ পর্যন্ত কাঙ্ক্ষিত আন্তর্জাতিক সমর্থন এনে দিতে না পারলেও, এটি পাকিস্তানের পক্ষ থেকে হতাশা দুর করতে এবং নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে নেওয়া এক রাজনৈতিক কৌশল ছিল।
এই পোস্টাল প্রচারণা ও বন্দি সৈনিকদের ভূমিকা সম্পর্কে বিশদ তথ্য ও নথি আজো গবেষকদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ ইতিহাসের অংশ হিসেবে বিবেচিত হয়ে থাকে, যা সেদিনের রাজনৈতিক বাস্তবতা ও পরাজয়ের পরবর্তী সময়গুলোকে আরও গভীরভাবে বুঝতে সাহায্য করে।
