গাজায় চলমান যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বেড়েছে। এই বিলম্বের জন্য একে অপরকে দায়ী করছে ইসরায়েল ও হামাস। উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে যুদ্ধবিরতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, চুক্তির শর্ত বাস্তবায়নে ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে গড়িমসি করছে। তাদের অভিযোগ, মানবিক সহায়তা প্রবেশে বাধা, সেনা প্রত্যাহারে অনীহা এবং বন্দি বিনিময় সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি পূরণ না করাই বিলম্বের মূল কারণ। হামাসের দাবি, এসব শর্ত পূরণ না হলে দ্বিতীয় ধাপে অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়।
অন্যদিকে ইসরায়েল বলছে, হামাস চুক্তির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো মানছে না এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত নিশ্চয়তা দিতে ব্যর্থ হচ্ছে। তাদের মতে, হামাসের অবস্থান ও কার্যক্রম যুদ্ধবিরতির পরিবেশকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে। এজন্যই দ্বিতীয় ধাপ শুরু করতে সময় লাগছে বলে দাবি করা হচ্ছে।
এই টানাপোড়েনের মধ্যে গাজার সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়ছে। খাদ্য, পানি, চিকিৎসা ও আশ্রয়ের সংকট এখনো তীব্র। যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ আংশিক স্বস্তি দিলেও দ্বিতীয় ধাপ বিলম্বিত হওয়ায় স্থায়ী শান্তির আশা আবারও অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীরা উভয় পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানাচ্ছেন। তারা বলছেন, পারস্পরিক দোষারোপের রাজনীতি ছেড়ে দ্রুত আলোচনায় বসে চুক্তির বাকি অংশ বাস্তবায়ন করা জরুরি। নইলে যুদ্ধ আবারও পূর্ণমাত্রায় শুরু হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপ বাস্তবায়ন না হলে আস্থা সংকট আরও গভীর হবে। এতে শুধু রাজনৈতিক প্রক্রিয়াই ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, গাজার মানবিক পরিস্থিতিও আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। তাই এখন সবচেয়ে জরুরি হলো কার্যকর সংলাপ ও প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন।
