গাজায় হামলা কমানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও অস্ত্র ছাড়ার কথা অস্বীকার হামাসের

গাজার শীর্ষ ধারার দল হামাসের একজন উচ্চপদস্থ নেতা ঘোষণা করেছেন যে ভবিষ্যতে গাজা থেকে ইসরায়েলের ওপর ব্যাপক আকস্মিক হামলা কমানো হবে। তবে দলটি তাদের সশস্ত্র ক্ষমতা বা অস্ত্র পরিত্যাগ করার দাবিকে প্রত্যাখ্যান করেছে।

হামাসের ওই নেতা বলেন, অস্ত্রই তাদের প্রতিরোধের মূল এবং সেটি ছাড়া তাদের পরিচয় অদৃশ্য হয়ে যাবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন যে নিরাপত্তা, সঙ্গঠনগত শক্তি ও প্রতিরোধের ধারাকে তারা সমাপ্ত করতে রাজি নয়।

গত কয়েক মাস ধরে প্রস্তাবিত যুদ্ধবিরতি ও অস্থায়ী শান্তি উদ্যোগ নিয়ে আলোচনার পর কিছুক্ষণ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হয়েছে। সেই প্রক্রিয়ায় বন্দি মুক্তি, গাজার পুনর্গঠন ও জরুরি মানবিক সহায়তা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কিন্তু হামাস বলেছে যে গাজার নিয়ন্ত্রণ তারা স্থানীয় ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ বা বাহিনীর হাতে রাখতে চায় এবং বাইরের কোনো প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কবুল করবে না।

অপরদিকে গাজার প্রতিপক্ষ রাষ্ট্র কয়েকটি দেশ দাবি করছে যে সেখানে স্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হলে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলি নিজেদের অস্ত্র থেকে বিরত থাকতে হবে এবং বাস্তবে স্থায়ী শান্তির জন্য অস্ত্রের অবসান দরকার। কিন্তু হামাসের কড়া মনোভাব শান্তি প্রক্রিয়ার জন্য বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে।

গাজার সাধারণ মানুষের দিক থেকে দেখা গেলে, দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত ও ধ্বংসযজ্ঞের পর তারা নিরাপত্তা, জীবন্ত পুনর্গঠন ও মৌলিক সরবরাহের প্রত্যাশায় আছে। কিন্তু যদি অস্ত্রনিরস্ত্রীকরণ না ঘটে, তা হলে ভবিষ্যতে ফের সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা বেড়ে যাবে এবং পুনর্বাসন কার্যক্রম ঝুঁকিতে পড়বে।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মনোভাব বিভক্ত: কেউ অবিলম্বে অস্ত্র নিঃশেষের দাবি জানায়, আবার কেউ তাত্ক্ষণিক মানবিক সহায়তা ও বেসরকারি পুনর্গঠনের ওপর জোর দেয়। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টা না হলে গাজার টেকসই শান্তি ও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার পথ কঠিন হয়ে উঠবে।

গাজার সাধারণ নাগরিকরা এখন শান্তি, স্থায়ী নিরাপত্তা এবং সুস্থ পুনর্নির্মাণের প্রত্যাশায় থাকা সত্ত্বেও রাজনৈতিক ও সামরিক বিভাজন সেই প্রত্যাশাকে ঝুঁকির মুখে ফেলে দিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *