নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে ছিনতাইকালে সন্দেহ, মানুষ মারলো — ‘মোব’ হামলায় মৃত্যু

নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ উপজেলায় ছিনতাইকালে সন্দেহের ভিত্তিতে এক ব্যক্তিকে জনতার গোষ্ঠী শুরু করেছিল — ফলশ্রুতিতে তিনি নির্মমভাবে মারিতা পড়ে মারা গেছেন। নিহত কারো নাম ছিল ফখরুল ইসলাম মঞ্জু, বয়স ২৫ বছর, এবং তিনি কক্সবজারীর চৌমুহনী পৌরসভার খালাসিবাড়ি এলাকার বাসিন্দা।

স্থানীয়রা জানায়, সকালে এক ব্যবসায়ী বাড়ি থেকে বাজারে যাচ্ছিলেন; তার সঙ্গে ছিল বিশাল পরিমাণ নগদ টাকা। পথে ফখরুল ও তার সহযোগী এক ব্যক্তি তাকে ঘিরে টাকা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করে। একসময় উন্নয়নের মধ্যে সেই ব্যবসায়ী চিৎকার দিলে আশেপাশের অনেক মানুষ ছুটে আসে। ভিড়ের হাতে ছিনতাইকারী মূলত ওই যুবককে ধরিয়ে দেওয়া হয় এবং একটানা মারধর শুরু হয়। মারপিটের সময় ফখরুল এবং তার সহযোগীকে বন্ধ করে রাখা হয়, পরে ফখরুল ঘটনাস্থলেই মারা যায় এবং সহযোগী Kiron হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, ফখরুল ইতিপূর্বে কয়েকটি মামলায় অভিযুক্ত ছিল। এমন অতীতকে কাজে লাগিয়ে জনরোষ (public outrage) তৈরি হয়েছিল, যা মৃত্যুর ঘটনার দিকে নিয়ে যায়। যদিও নিহতের পরিবার বলেছে — এটি পুরনো শত্রুতা ও দ্বন্দ্বের ফল, সাধারণ ছিনতাইয়ের অভিযোগ ছিল মাত্র এক অজুহাত।

মড়ার পর তার দেহ নোয়াখালী সাধারণ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে ময়না তদন্তের জন্য। সংশ্লিষ্ট থানা অফিসার জানিয়েছেন — এখনো কোনো মামলা করা হয়নি। কারণ, ঘটনার ওপর সম্ভাব্য অভিযোগ ও দলিল স্বরূপ ভুক্তভোগীদের স্বীকারোক্তি সংগ্রহ হচ্ছে।

এই ঘটনায় গ্রাম-গঞ্জ-শহর নির্বিশেষে মানুষ যেন ‘আত্মগোষ্ঠী বিচার’ বা ‘জনতার বিচার’ এর নামে আইন নিজের হাতে তুলে নিচ্ছেন — তার প্রতি আবারও প্রশ্ন উঠেছে। বিচার যদি হয়, তাহলে সেটা আইন ও আদালতের মাধ্যমে হওয়া উচিত। অন্যথায় সাধারণ নিরাপত্তা ও ন্যায়ব্যবস্থা বড় ঝুঁকির মুখে পড়বে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *