ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি দেশটির সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা জিইউআর (GUR)-এর প্রধান কিরিলো বুদানভকে তার নতুন ‘চিফ অফ স্টাফ’ হিসেবে নিয়োগ দিয়েছেন। ২০২৬ সালের ২ জানুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধ অবসানে যখন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় একটি ২০-দফা শান্তি পরিকল্পনা নিয়ে কাজ চলছে, ঠিক সেই গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এই বড় ধরনের রদবদল করা হলো। প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি জানিয়েছেন যে, ইউক্রেনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীর উন্নয়নের পাশাপাশি কূটনৈতিক আলোচনার পথ মসৃণ করতেই অভিজ্ঞ বুদানভকে এই শীর্ষ পদে নিয়ে আসা হয়েছে।
৩৯ বছর বয়সী কিরিলো বুদানভ ২০২০ সাল থেকে ইউক্রেনের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থার প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। ২০২২ সালে রাশিয়ার পূর্ণ মাত্রার আগ্রাসন শুরু হওয়ার পর থেকে তিনি রাশিয়ার বিরুদ্ধে বেশ কিছু অত্যন্ত সাহসী ও গোপন সামরিক অভিযান পরিচালনার জন্য প্রশংসিত হয়েছেন। তিনি তার নতুন দায়িত্ব পাওয়ার পর জানিয়েছেন যে, এই ঐতিহাসিক সময়ে দেশের কৌশলগত নিরাপত্তার মতো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কাজ করা তার জন্য বড় সম্মানের এবং দায়িত্বের। বুদানভ এমন একজন ব্যক্তি যিনি শুরু থেকেই রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার বিরুদ্ধে ইউক্রেনীয়দের সতর্ক করে আসছিলেন এবং এই যুদ্ধকে ইউক্রেনের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বুদানভ বিদায়ী চিফ অফ স্টাফ আন্দ্রিয় ইয়ারমাক-এর স্থলাভিষিক্ত হলেন। ইয়ারমাক জেলেনস্কির সবচেয়ে ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত থাকলেও দুর্নীতির অভিযোগ এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে গত নভেম্বরে পদত্যাগ করেন। এছাড়া জেলেনস্কি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়েও বড় পরিবর্তন এনেছেন। তিনি ৩৪ বছর বয়সী বর্তমান ডিজিটাল ট্রান্সফরমেশন মন্ত্রী মিখাইলো ফেডোরভকে নতুন প্রতিরক্ষা মন্ত্রী হিসেবে প্রস্তাব দিয়েছেন। ফেডোরভ ড্রোন প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং সরকারি পরিষেবা ডিজিটালকরণের ক্ষেত্রে অভাবনীয় সাফল্য দেখিয়েছেন, যা যুদ্ধক্ষেত্রে ইউক্রেনকে শক্তিশালী করবে বলে জেলেনস্কি মনে করেন। অন্যদিকে বুদানভের জায়গায় জিইউআর-এর নতুন প্রধান হিসেবে ওলেহ ইভাশচেঙ্কোকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এই রাজনৈতিক রদবদলের মধ্যেই শুক্রবার ইউক্রেনের খারকিভ শহরে রাশিয়ার এক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় এক নারী ও তার ছেলের মৃত্যু হয়েছে। রুশ ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে একটি পাঁচতলা আবাসিক ভবন প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন। জেলেনস্কি এই হামলাকে ‘ঘৃণ্য’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন যে, আমেরিকা যখন যুদ্ধের কূটনৈতিক সমাধানের চেষ্টা করছে, তখন রাশিয়া নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে তাদের অমানবিক মেজাজ বজায় রাখছে। ইউক্রেনের এই প্রশাসনিক পরিবর্তন এবং মাঠপর্যায়ের উত্তপ্ত পরিস্থিতি ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দেশটি একই সাথে যুদ্ধ জয় এবং শান্তি আলোচনা—উভয় ক্ষেত্রেই একটি শক্তিশালী ও নতুন কৌশল নিয়ে এগোতে চাইছে।
