গাজা ও পশ্চিম তীরে এনজিও নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বাতিলের আহ্বান জাতিসংঘ মহাসচিবের

জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস গাজা এবং অধিকৃত পশ্চিম তীরে কর্মরত ৩৭টি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাকে (এনজিও) নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত বাতিলের জন্য ইসরায়েলের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন। ২০২৬ সালের ৩ জানুয়ারি আল জাজিরায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। গুতেরেস সতর্ক করে বলেছেন যে, এই সংস্থাগুলো ফিলিস্তিনিদের জীবন রক্ষাকারী মানবিক সহায়তায় অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে এবং তাদের কার্যক্রম স্থগিত করা হলে তা চলমান যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে অর্জিত ভঙ্গুর অগ্রগতিকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।

ইসরায়েল সরকার এই এনজিওগুলোর বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে যে, তারা নতুন রেজিস্ট্রেশন নিয়ম অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই নতুন নিয়মে সংস্থাগুলোকে তাদের কর্মী, অর্থায়ন এবং কার্যক্রমের বিস্তারিত তথ্য ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষকে প্রদান করতে বলা হয়েছে। আগামী ১ মার্চ থেকে এই নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার পরিকল্পনা নিয়েছে ইসরায়েল। তবে মানবিক সাহায্য সংস্থা এবং বিশেষজ্ঞরা এই নিয়মকে ‘স্বেচ্ছাচারী’ এবং মানবিক নীতিমালার পরিপন্থী হিসেবে বর্ণনা করেছেন। সাহায্য সংস্থাগুলো জানিয়েছে, ফিলিস্তিনি কর্মীদের ব্যক্তিগত তথ্য ইসরায়েলকে দিলে তাদের নিরাপত্তা চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে। এই নিষিদ্ধ তালিকায় ডক্টরস উইদাউট বর্ডার্স (MSF), নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিল এবং ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির মতো বিশ্বখ্যাত সংস্থাগুলোও রয়েছে।

গুতেরেস তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেছেন যে, এই নিষেধাজ্ঞা এমন এক সময়ে আসছে যখন আগে থেকেই গাজায় খাদ্য, চিকিৎসা সামগ্রী এবং আশ্রয়ের উপকরণ প্রবেশে ব্যাপক বাধার সৃষ্টি করা হচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক অভিযানে ইতিমধ্যে গাজায় প্রায় ৫০০ ত্রাণকর্মী ও স্বেচ্ছাসেবক নিহত হয়েছেন এবং ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৭১ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। শীতকালীন ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টির কারণে গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষ যখন চরম মানবেতর জীবন কাটাচ্ছে, তখন এই এনজিওগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তাদের কষ্টকে আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

একই দিনে কাতার, মিশর, জর্ডান, সৌদি আরবসহ আটটি দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা গাজার বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। এক যৌথ বিবৃতিতে তারা সতর্ক করে বলেছেন যে, বন্যায় প্লাবিত ক্যাম্প, ক্ষতিগ্রস্ত তাবু এবং অপুষ্টির সাথে তীব্র শীতের সংমিশ্রণে সাধারণ মানুষের জীবন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। তারা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়েছেন যেন ইসরায়েলের ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় যাতে তারা তাবু, জ্বালানি, পরিষ্কার পানি এবং স্যানিটেশনের মতো প্রয়োজনীয় সামগ্রী বিতরণে সব ধরনের বিধিনিষেধ তুলে নেয়। গাজাবাসীর জীবন বাঁচাতে এই মানবিক সংস্থাগুলোর কার্যক্রম অব্যাহত রাখা এখন সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *