মজলুম জননেতা মাওলানা আব্দুল হামিদ খান ভাসানীর দৌহিত্র ও জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় নেতা আজাদ খান ভাসানী দলটির সাথে সব ধরনের আনুষ্ঠানিক সম্পর্কচ্ছেদের ঘোষণা দিয়েছেন। জামায়াতে ইসলামী ও সমমনা দলগুলোর সাথে এনসিপির নির্বাচনী জোট গঠনের সিদ্ধান্তের পর রোববার দিবাগত মধ্যরাতে এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান।
আজাদ খান ভাসানী এনসিপির কেন্দ্রীয় সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) এবং দলের কৃষক উইংয়ের প্রধান সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাঁর এই পদত্যাগের পেছনে মূলত তিনটি প্রধান কারণ উঠে এসেছে:
-
আদর্শিক বিচ্যুতি: তিনি জানান, মাওলানা ভাসানীর দেখানো গণমানুষনির্ভর, আধিপত্যবাদ ও সাম্রাজ্যবাদবিরোধী রাজনীতির স্বপ্ন নিয়ে তিনি এনসিপিতে যোগ দিয়েছিলেন। কিন্তু বর্তমানে দলটির মধ্যে গণমানুষের প্রতি দরদ ও ত্যাগের গভীরতার স্পষ্ট অভাব তিনি অনুভব করছেন।
-
স্বতন্ত্র পরিচয় গড়তে ব্যর্থতা: নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত এবং একটি স্বতন্ত্র শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশের ক্ষেত্রে এনসিপি প্রত্যাশিত সাফল্য দেখাতে পারেনি বলে তিনি মনে করেন।
-
ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা: তাঁর মতে, মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা রক্ষা এবং মাওলানা ভাসানীর আদর্শের পক্ষাবলম্বন করা এখন যেকোনো পদের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
পোস্টের শেষে তিনি এনসিপির উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন এবং আশা প্রকাশ করেন যে, তারুণ্যের এই দলটি যেন ভবিষ্যতে গণমানুষের রাষ্ট্র বিনির্মাণের সঠিক পথ খুঁজে পায়।
এনসিপিতে গণ-পদত্যাগের হিড়িক: উল্লেখ্য যে, জামায়াতের সাথে আসন সমঝোতার সিদ্ধান্তের পর থেকে এনসিপিতে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিয়েছে। আজাদ খান ভাসানীর আগে উপদেষ্টা মাহফুজ আলম, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা এবং যুগ্ম আহ্বায়ক তাজনূভা জাবীনসহ অসংখ্য নেতা দল ত্যাগ করেছেন। এই গণ-পদত্যাগ দলটির ভবিষ্যৎ ও নির্বাচনী ইমেজের ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
