বরিশালের গৌরনদী উপজেলায় হাট-বাজারের ইজারা সংক্রান্ত দরপত্র কেনায় বাধা দেওয়ার প্রতিবাদ করায় দুই নেতাকে নির্মমভাবে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ উঠেছে। গত বুধবার রাতে উপজেলার বাটাজোর এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে বাটাজোর ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক খোকন ফকির ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে। হামলায় গুরুতর আহত গৌরনদী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মনির বিশ্বাস এবং ইউনিয়ন যুবদল সদস্য মামুন সরদারকে বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত ১৪ মার্চ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন হাট-বাজারের ইজারা বিজ্ঞপ্তি নিয়ে। অভিযোগ রয়েছে, গত ১৯ মার্চ দরপত্র কেনার শেষ দিনে স্থানীয় বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার অনুসারীরা অন্যদের ফরম কিনতে বাধা দেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল এবং কয়েক দফায় হাতাহাতির ঘটনাও ঘটে। আহতদের দাবি, বুধবার রাতে বিষয়টি মীমাংসার কথা বলে তাদের ডেকে নেওয়া হয়। এরপর খোকন ফকির ও তার অনুসারীরা হাতুড়ি ও দেশীয় অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালায় এবং রক্তাক্ত জখম করে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন মনির বিশ্বাস ও মামুন সরদার অভিযোগ করেন, খোকন ফকির নিজেই তার কোমর থেকে হাতুড়ি বের করে তাদের ওপর চড়াও হন। হত্যার উদ্দেশ্যেই এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে বলে তারা দাবি করেন। তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন বিএনপি নেতা খোকন ফকির। তিনি জানান, এই হামলার বিষয়ে তিনি কিছুই জানেন না এবং পূর্বশত্রুতার জেরে তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. ইউনুস মিয়া জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। তবে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো পক্ষই লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে দ্রুত তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি নিশ্চিত করেছেন। বর্তমানে ভুক্তভোগী পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে।
