দীর্ঘ ১৭ বছরের নির্বাসন শেষে বাংলাদেশে ফিরেছেন বিএনপি’র ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। আল জাজিরার একটি বিশেষ প্রতিবেদনে তার এই প্রত্যাবর্তন এবং বাংলাদেশের আগামী দিনের রাজনীতিতে তার ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে অবস্থানরত ৫৬ বছর বয়সী এই নেতা শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর একটি পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে দেশে ফিরেছেন। বিমানবন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে লাখ লাখ সমর্থকের ঢল নামে, যা দেশের রাজনীতিতে তার শক্তিশালী অবস্থানের প্রমাণ দেয়। তারেক রহমানের এই প্রত্যাবর্তনকে বিএনপি সমর্থকরা গণতন্ত্রের পুনঃপ্রতিষ্ঠা হিসেবে দেখছেন।
তারেক রহমান বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার বড় ছেলে। ২০০৪ সালের গ্রেনেড হামলাসহ একাধিক মামলায় তাকে সাজা দেওয়া হয়েছিল, যা তার দল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করে আসছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অধীনে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে থাকা আইনি বাধাগুলো দূর করার চেষ্টা চলছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমান এখন বাংলাদেশের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার দৌড়ে সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার। তরুণ প্রজন্মের একটি বড় অংশ এবং গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর মধ্যে তার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। তবে তার নেতৃত্বের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। অতীত শাসন আমলের বিতর্ক এবং আন্তর্জাতিক মহলের সাথে সম্পর্কের উন্নয়ন তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হবে।
বিএনপি বর্তমানে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়ে আসছে। তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলটি পুনর্গঠিত হচ্ছে এবং তিনি বারবার একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন। আল জাজিরার বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, তারেক রহমানের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে তিনি কীভাবে দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার রূপরেখা জনগণের সামনে তুলে ধরেন তার ওপর।
