রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে যে, ২০২৫ সালের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত তারা ইউক্রেনের ৫,১০০ বর্গকিলোমিটারেরও বেশি অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিতে সক্ষম হয়েছে। আল জাজিরার একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি বছরে যুদ্ধক্ষেত্রে মস্কোর সামরিক অগ্রগতি গত কয়েক বছরের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মস্কোর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাশিয়ার সেনাবাহিনী ইউক্রেনের পূর্ব দিকে ডনবাস অঞ্চলে তাদের অভিযান জোরদার করেছে এবং একের পর এক কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ শহর ও গ্রাম দখল করেছে। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী আন্দ্রেই বেলোসভ এই সাফল্যকে রুশ সেনাদের অসীম সাহস এবং উন্নত যুদ্ধকৌশলের ফল হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি দাবি করেন যে, ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং তারা পশ্চাদপসরণ করতে বাধ্য হচ্ছে।
রাশিয়ার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, শুধুমাত্র গত মাসেই তারা বিশাল এলাকা দখলে নিয়েছে। মস্কোর এই অগ্রগতির ফলে ইউক্রেনের জ্বালানি অবকাঠামো এবং সরবরাহ লাইনের ওপর রাশিয়ার চাপ আরও তীব্র হয়েছে। ক্রেমলিন মনে করছে, এই সামরিক সাফল্য কিয়েভকে ভবিষ্যতে আলোচনার টেবিলে নমনীয় হতে বাধ্য করবে।
অন্যদিকে, ইউক্রেন রাশিয়ার এই দাবির বিষয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও তারা স্বীকার করেছে যে, পূর্ব ফ্রন্টে পরিস্থিতি অত্যন্ত কঠিন। কিয়েভ বারবার তাদের পশ্চিমা মিত্রদের কাছে আরও আধুনিক অস্ত্র এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার অনুরোধ জানিয়ে আসছে যাতে তারা রাশিয়ার এই অগ্রযাত্রা রুখে দিতে পারে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৫ সালে রাশিয়ার এই বিশাল এলাকা দখল যুদ্ধের গতিপ্রকৃতিতে নতুন মোড় আনতে পারে।
যুদ্ধের এই ভয়াবহতায় ইউক্রেনের সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন এবং সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলো থেকে হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এই পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে এবং পুনরায় শান্তি আলোচনার জন্য আহ্বান জানাচ্ছে।
