বরিশালের আগৈলঝাড়ায় প্রশাসনের হস্তক্ষেপে দশম শ্রেণীর এক শিক্ষার্থীর বাল্যবিবাহ বন্ধ করা হয়েছে। উপজেলার রাজিহার গ্রামে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। নিয়ম লঙ্ঘন করে অপ্রাপ্তবয়স্ক মেয়ের বিয়ের আয়োজন করায় ভ্রাম্যমাণ আদালত কনের বাবাকে ৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেছেন। আদালত পরিচালনা করেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে ইমামা বানিন।
স্থানীয় ও আদালত সূত্রে জানা যায়, রাজিহার গ্রামের রঞ্জন মল্লিকের স্কুলপড়ুয়া মেয়ে পূজা মল্লিকের (১৬) সাথে একই উপজেলার রামানন্দেরআঁক গ্রামের প্রবাসী লিটন বিশ্বাসের ছেলে স্বাগতম বিশ্বাসের বিয়ের প্রস্তুতি চলছিল। শনিবার রাতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চলাকালে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে সেখানে অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতি টের পেয়ে বর ও কনে পক্ষের লোকজন দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। তবে পুলিশ কনের বাবা রঞ্জন মল্লিক ও মা রানী মল্লিককে আটক করে থানায় নিয়ে যায়।
পরবর্তীতে ভ্রাম্যমাণ আদালতে আসামিরা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করলে বিচারক রঞ্জন মল্লিককে ৫ হাজার টাকা জরিমানা করেন। একইসাথে মেয়ে প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তাকে বিয়ে দেবেন না মর্মে একটি অঙ্গীকারনামা বা মুচলেকা নেওয়া হয়। এ প্রসঙ্গে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট উম্মে ইমামা বানিন জানান, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে প্রশাসন জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করছে। এই অভিযান চলাকালে আগৈলঝাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
