ফিলিস্তিনিদের নতুন আশা: অধিকৃত পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে আইনি বিজয়

অধিকৃত পশ্চিম তীরের আল-মাখরুর (al-Makhrour) গ্রামে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ে জয়লাভ করেছেন ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান অধিকারকর্মী অ্যালিস কিসিয়া (Alice Kisiya)। এই বিজয় ফিলিস্তিনিদের মাঝে দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের নতুন আশা জাগিয়ে তুলেছে।

আল জাজিরার বিশেষ প্রতিবেদনে এই বিজয়ের প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি তুলে ধরা হয়েছে:

  • আইনি লড়াই ও বিজয়: ২০১৯ সাল থেকে অ্যালিস এবং তার পরিবার তাদের পৈতৃক জমিতে প্রবেশাধিকার হারিয়েছিলেন। একটি ইসরায়েলি বসতি স্থাপনকারী সংগঠন ভুয়া নথিপত্র ব্যবহার করে দাবি করেছিল যে তারা ওই জমিটি কিনেছে। তবে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ইসরায়েলি আদালত বসতি স্থাপনকারীদের নথিপত্রকে জাল হিসেবে চিহ্নিত করে এবং অ্যালিসের পরিবারকে ওই ৫ দুনাম (০.০০৫ বর্গকিমি) জমির প্রকৃত মালিক হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। গত জুন মাসের এই রায়ের পর অবশেষে মঙ্গলবার অ্যালিস তার জমিতে পা রাখার সুযোগ পান।

  • সংগ্রামের প্রতীক: অ্যালিস কিসিয়া জানান, এই বিজয় তাকে শিখিয়েছে যে শত চাপের মুখেও সংগ্রাম ত্যাগ করা উচিত নয়। এর আগে ২০২৪ সালে বসতি স্থাপনকারীদের জমি দখলের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিনি গ্রেপ্তারও হয়েছিলেন। তার এই জয় তাকে খ্রিস্টান সম্প্রদায় এবং অন্য ফিলিস্তিনিদের কাছে প্রতিরোধের প্রতীকে পরিণত করেছে।

  • ভয় ও শঙ্কা: আইনি জয় সত্ত্বেও অ্যালিস ও তার পরিবার এখনো তাদের জমিতে স্থায়ীভাবে বসবাস করতে পারছেন না। কারণ, ইসরায়েলের বর্তমান উগ্র ডানপন্থী সরকারের মন্ত্রীদের (যেমন স্মোট্রিচ এবং বেন-গ্যভির) মদদে বসতি স্থাপনকারীরা প্রায়ই ফিলিস্তিনিদের ওপর হামলা চালায়। নিরাপত্তার অভাবে তারা এখনো তাদের ভেঙে ফেলা বাড়ি বা রেস্তোরাঁ পুনর্নির্মাণ করতে পারছেন না।

  • বসতি সম্প্রসারণের হুমকি: ফিলিস্তিনিদের এই ছোট ছোট জয় সত্ত্বেও ইসরায়েলি সরকার পশ্চিম তীরে বসতি সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছে। গত তিন বছরে প্রায় ৬৯টি নতুন বসতিকে বৈধতা দেওয়া হয়েছে। ইসরায়েলি সরকারের লক্ষ্য হলো পূর্ব জেরুজালেমকে দক্ষিণ পশ্চিম তীরের গুশ এটজিয়ন (Gush Etzion) ব্লকের সাথে সংযুক্ত করে ‘বৃহত্তর জেরুজালেম’ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা, যা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের সম্ভাবনাকে নস্যাৎ করবে।

  • খ্রিস্টান বিশ্বের প্রতি আহ্বান: বড়দিন উপলক্ষে অ্যালিস কিসিয়া বিশ্বজুড়ে চার্চের নেতৃবৃন্দ এবং পোপের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যাতে তারা ফিলিস্তিনের প্রাচীন খ্রিস্টান জনপদ রক্ষায় এগিয়ে আসেন। তিনি মনে করিয়ে দেন যে ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানরা এই জাতীয় সংগ্রামের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং তারাও মুসলিম ভাইবোনদের মতো পদ্ধতিগত নিপীড়নের শিকার।

অ্যালিস কিসিয়ার এই বিজয়কে অনেক আইনি বিশেষজ্ঞ ইতিবাচক দেখলেও তারা সতর্ক করেছেন যে, ইসরায়েলি প্রশাসন ও বসতি স্থাপনকারীরা প্রায়ই আদালতের নির্দেশ অমান্য করার চেষ্টা করে। তবুও, আল-মাখরুরের কৃষকরা তাদের জমিতে ২৪ ঘণ্টা অবস্থান করে এবং নতুন করে জলপাই ও আঙুর গাছ রোপণ করে প্রতিরোধের এই লড়াই চালিয়ে যাওয়ার শপথ নিয়েছেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *