গৌরনদীতে সাত ইউপি চেয়ারম্যানের অপসারণের দাবিতে বিএনপির বিক্ষোভ ও পরিষদে তালা

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার সাতটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতাদের পদ থেকে অপসারণের দাবিতে মঙ্গলবার সকালে বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের একাংশের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ সমাবেশ করেছেন। বিক্ষোভ মিছিলটি শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। সমাবেশ শেষে বিক্ষুব্ধ জনতা উপজেলার ৬টি ইউনিয়ন পরিষদে তালা ঝুলিয়ে দেয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

বিএনপির দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্টের পর উপজেলার চাঁদশী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম পলাতক থাকায় ওই পদটি শূন্য ঘোষণা করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। তবে খাঞ্জাপুর ইউপি চেয়ারম্যান নূর আলম সেরনিয়াবাত, বার্থী ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক হাওলাদার, মাহিলাড়া ইউপি চেয়ারম্যান সৈকত গুহ পিকলু, বাটাজোর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রব হাওলাদার, সরিকল ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ ফারুক হোসেন মোল্লা এবং নলচিরা ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম হাফিজ মৃধা বহাল তবিয়তে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন।

বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, এই চেয়ারম্যানরা বিগত সরকারের সময়ে এলাকায় সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি এবং বিএনপি নেতাকর্মীদের বাড়িতে হামলার মাধ্যমে ‘রামরাজত্ব’ কায়েম করেছিলেন। বর্তমানে তারা আওয়ামী লীগকে সুসংগঠিত করা এবং নাশকতার পরিকল্পনা করছেন। এই দাবিতে মঙ্গলবার সকালে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ড থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করা হয়। সমাবেশে বক্তব্য রাখেন জেলা উত্তর বিএনপির সদস্য এস.এম. মনিরুজ্জামান, মঞ্জুর হোসেন মিলন, তাইফুর রহমান কচি, হোসনে আরা বেবী, কেন্দ্রীয় কৃষক দলের সাংগঠনিক সম্পাদক জাকির হোসেনসহ আরও অনেকে।

ইউনিয়ন পরিষদগুলোর সচিবদের অভিযোগ, দুপুর ১২টার পর বিক্ষুব্ধ লোকজন এসে পরিষদে তালা লাগিয়ে দেয়। সরিকল ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক হোসেন মোল্লা এই ঘটনার জন্য বিএনপি নেতা মঞ্জুর হোসেন মিলনকে দায়ী করেছেন। তবে মঞ্জুর হোসেন মিলন এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘বিনা ভোটে নির্বাচিত আওয়ামী লীগ সন্ত্রাসী চেয়ারম্যানদের অপসারণের দাবিতে বিক্ষুব্ধ জনতা তালা দিয়েছে, আমরা এ বিষয়ে কিছু জানি না।’

এ বিষয়ে গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রিফাত আরা মৌরী বলেন, ‘বিএনপির কিছু নেতাকর্মী চেয়ারম্যানদের অপসারণ চেয়ে স্মারকলিপি দিয়েছেন। ইউনিয়ন পরিষদে তালা দেওয়ার অভিযোগও পেয়েছি। সরকারি স্থাপনায় হামলা বা তালা দেওয়া সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড হিসেবে গণ্য হবে। ঘটনার তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলেই প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তালাবদ্ধ ইউনিয়ন পরিষদগুলো পুনরায় খুলে দেওয়া হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *