পূর্ব তিমুরের প্রেসিডেন্ট জোসে রামোস-হোর্তা বলেছেন, বর্তমান বিশ্বে কূটনীতির গুরুত্ব আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। সংঘাত ও মানবিক সংকট মোকাবিলায় শক্তির ব্যবহার নয়, বরং সংলাপ, সহানুভূতি ও ন্যায়ভিত্তিক অবস্থানই টেকসই সমাধানের পথ হতে পারে বলে তিনি মনে করেন।
গাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তার মতে, সেখানে যে মানবিক বিপর্যয় তৈরি হয়েছে, তা শুধু একটি অঞ্চলের সমস্যা নয়; এটি গোটা বিশ্বের নৈতিক পরীক্ষার বিষয়। বেসামরিক মানুষের প্রাণহানি ও শিশুদের দুর্ভোগ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন।
পশ্চিমা বিশ্বের ভূমিকা নিয়ে প্রেসিডেন্ট রামোস-হোর্তা বলেন, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রশ্নে দ্বৈত মানদণ্ড পরিহার করা জরুরি। কোথাও অন্যায় হলে তা স্পষ্টভাবে স্বীকার করা এবং ন্যায়ের পক্ষে অবস্থান নেওয়াই বিশ্বাসযোগ্য কূটনীতির ভিত্তি। তিনি মনে করেন, নিরপেক্ষ ও ন্যায়সঙ্গত অবস্থান না থাকলে শান্তির উদ্যোগগুলো দুর্বল হয়ে পড়ে।
নিজ দেশের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রাম ও সংঘাতের পর পূর্ব তিমুর শান্তির পথে এগিয়েছে মূলত সংলাপ ও আন্তর্জাতিক সংহতির মাধ্যমে। সেই অভিজ্ঞতা থেকে বিশ্ব শিখতে পারে যে, সবচেয়ে কঠিন পরিস্থিতিতেও আলোচনা ও সহমর্মিতা ফল দিতে পারে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বব্যবস্থায় ছোট দেশগুলোর কণ্ঠস্বরও গুরুত্বপূর্ণ। শক্তিধর রাষ্ট্রগুলোর উচিত দুর্বল ও ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কথা শোনা এবং তাদের সুরক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখা।
শেষে প্রেসিডেন্ট রামোস-হোর্তা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, ন্যায়, মানবিকতা ও কূটনীতির প্রতি আন্তরিক প্রতিশ্রুতি থাকলে গাজাসহ বিভিন্ন সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে শান্তির পথ তৈরি হতে পারে। তিনি বিশ্বনেতাদের দায়িত্বশীল ও মানবিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান।
