পূর্ব কঙ্গোর পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সশস্ত্র গোষ্ঠী এম২৩ দক্ষিণ কিভুর গুরুত্বপূর্ণ শহর উভিরার নিয়ন্ত্রণ সুদৃঢ় করেছে, যা সাম্প্রতিক সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্রদের সঙ্গে দীর্ঘদিনের সংঘর্ষের পর শহরটি এম২৩–এর দখলে চলে যায়। শান্তিচুক্তির চেষ্টাগুলো ব্যর্থ হওয়ার পর সাধারণ মানুষের ওপর এর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে এবং শরণার্থীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে।
উভিরা থেকে পালিয়ে আসা মানুষজন জানিয়েছেন যে তারা চোখের সামনে মৃত্যু ও ধ্বংসলীলা দেখেছেন। অনেকের প্রতিবেশী বোমায় নিহত হয়েছে। এক নারী জানান, তার গর্ভবতী প্রতিবেশীসহ দুই ছোট বাচ্চা বোমা বিস্ফোরণে মারা যায়। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে তারা বাধ্য হয়ে সীমান্ত পেরিয়ে আশ্রয়ের সন্ধানে পথে নেমেছেন। পরিবারের সদস্যরা বিচ্ছিন্ন হয়ে যাচ্ছে, অনেকে হারিয়ে গেছে, আর যারা বেঁচে আছেন তাদের কাঁধে অনিশ্চিত ভবিষ্যতের ভার।
এম২৩–এর অগ্রযাত্রায় সরকার–সমর্থক বাহিনী প্রতিরোধ চালানোর চেষ্টা করলেও তারা কার্যকরভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারছে না। সংঘাত দীর্ঘায়িত হওয়ায় শান্তি প্রক্রিয়ার যেকোনো সম্ভাবনা ক্ষীণ হয়ে পড়েছে। ফলে সাধারণ মানুষ আরও বিপদে পড়ছে, পাননি খাবার, পানি ও নিরাপদ আশ্রয়ের নিশ্চয়তা।
আন্তর্জাতিক মহল সহিংসতা অবিলম্বে থামানোর আহ্বান জানালেও বাস্তবে সেই উদ্যোগ সফলভাবে এগোচ্ছে না। জাতিসংঘ মহাসচিবও সতর্ক করে বলেছেন, এই সংঘাত পুরো অঞ্চলকে অস্থিতিশীলতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। হাজারো পরিবার এখনও বাড়ি ফিরতে পারছে না, তারা সীমান্তের আশ্রয়কেন্দ্রে মানবিক সহায়তার অপেক্ষায় আছে।
পূর্ব কঙ্গোর এই সংকট এখন শুধু রাজনৈতিক বা সামরিক নয়, এটি একটি গভীর মানবিক বিপর্যয়। প্রতিদিন নতুন নতুন পরিবার নিরাপত্তাহীনতার কারণে জীবন বাঁচাতে পালাতে বাধ্য হচ্ছে এবং পরিস্থিতি কোন দিকে যাবে তা নিয়ে উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
